জেলে যাওয়া এড়াতে আদালতে ফুল ফোটাবেন অভিযুক্ত! বিহারে মদ কাণ্ডে নজিরবিহীন নির্দেশ বিচারপতির

মদ বিক্রি ও সেবন নিয়ে বিহার সরকারের কঠোর আইনের কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু সেই মদের মামলাতেই এবার এক নজিরবিহীন ও অভিনব জামিনের নির্দেশ দিল পাটনা হাইকোর্ট! বেআইনি মদ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আগাম জামিন দিতে গিয়ে আদালত অদ্ভুত এক শর্ত বেঁধে দিয়েছে।

শর্তটি হল—সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তকে নিজের খরচে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন জাতের ফুলের টব কিনে স্থানীয় খাগড়িয়া সিভিল কোর্ট চত্বরের সৌন্দর্য বাড়াতে হবে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

ঘটনার সূত্রপাত বিহারের খাগড়িয়া জেলার সালারপুর এলাকায়। গত জুন মাসে একটি খোলা মাঠ থেকে প্রায় ৮১ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। সেই ঘটনায় উত্তম কুমার নামে স্থানীয় এক অধিবাসীকে প্রধান অভিযুক্ত করে কঠোর ‘বিহার প্রহিবিশন অ্যান্ড এক্সাইজ অ্যাক্ট’-এ মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারির আশঙ্কায় তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উত্তম।

আদালতে আইনজীবীর সওয়াল

পাটনা হাইকোর্টে বিচারক রাজীব রায়ের বেঞ্চে শুনানির সময় উত্তমের আইনজীবী যুক্তি দেন, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মদ উত্তমের ব্যক্তিগত হেফাজত বা ঘরবাড়ি থেকে মেলেনি। একটি উন্মুক্ত ও খোলা মাঠ থেকে তা উদ্ধার হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত। এর পাশাপাশি আইনি লড়াই চলাকালীন অভিযুক্ত উত্তম কুমার স্বপ্রণোদিত হয়ে জানান, তিনি খাগড়িয়া সিভিল কোর্টের সৌন্দর্য বাড়াতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে (DLSA) ১৫ হাজার টাকার ফুলের টব কিনে দিতে ইচ্ছুক।

বিচারপতির নির্দেশ ও কড়া অনুশাসন

সরকারি আইনজীবী এর তীব্র বিরোধিতা করলেও উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি রাজীব রায় পর্যবেক্ষণ করেন যে, বাজেয়াপ্ত মদ সত্যিই একটি খোলা মাঠ থেকে পাওয়া গেছে। ফলে বিচারক নির্দেশ দেন, চার সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করলে বা গ্রেফতার হলে ১০ হাজার টাকার জামিন বন্ডের বিনিময়ে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হবে।

তবে কেবল ফুলের টব কেনাই নয়, জামিন বহাল রাখতে বেশ কিছু কড়া অনুশাসনও মেনে চলতে হবে অভিযুক্তকে:

  • আগামী ৬ মাস প্রতি ১৫ দিন অন্তর স্থানীয় থানায় হাজিরা দিতে হবে।

  • নিম্ন আদালতে প্রতি শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। পরপর দুটি শুনানিতে অনুপস্থিত থাকলে জামিন বাতিল হয়ে যাবে।

  • কোনোভাবেই তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না।

হাইকোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নির্দেশিকা আপলোড হতেই পুরো বিহারের আইনি ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *