ইউটিউবার অজিত ভারতীর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ! এসসি/এসটি মামলায় বিরাট ধাক্কা পেলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর

জনপ্রিয় ইউটিউবার অজিত ভারতীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এক তফসিলি জাতি/উপজাতি (এসসি/এসটি) মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠোর রায় দিল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়েছে, তাঁর ভিডিওতে ব্যবহৃত ভাষা স্পষ্টতই বর্ণপ্রথাকে প্রতিফলিত করে। সেখানে বিবাহ ও পারিবারিক কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে উচ্চবর্ণকে নিম্নবর্ণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা প্রাথমিক বিচারে এসসি/এসটি আইনের আওতায় একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
গত ৭ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত দায়রা জজ সৌরভ প্রতাপ সিং লাল অজিত ভারতীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারক অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান যে, যদি এই মামলায় এসসি/এসটি আইনের ধারাগুলো না থাকত, তবে তিনি আসামির আগাম জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারতেন। তবে আদালত এও স্পষ্ট করেছে যে, এই আদেশের বিষয়বস্তু শুধুমাত্র আগাম জামিনের আবেদনের সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; অজিত ভারতী আসলেই দোষী কি না বা অভিযোগগুলি পুরোপুরি সত্য কি না, বিচার প্রক্রিয়ার আগে সে বিষয়ে এটি কোনো চূড়ান্ত মতামত নয়।
পুরো মামলার নেপথ্য কাহিনী:
গত ২৩ আগস্ট ইউটিউবার অজিত ভারতীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এসসি/এসটি আইন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে তিনি জাতিগত ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন, নাগিনা লোকসভার সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এবং সংবিধানের জনক বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে হুমকি দিয়েছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ভারতীর একটি ভিডিওর কমেন্ট বক্সে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, অজিত ভারতী যদি তাঁর বোনের সঙ্গে চন্দ্রশেখর আজাদের বিয়ে দেন, তবে দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ প্রথা শেষ হয়ে যাবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতী যে মন্তব্য করেন, তা থেকেই চরম আইনি বিপত্তি তৈরি হয়। এফআইআর অনুযায়ী, ভারতী অত্যন্ত অবমাননাকর ও জাতিসূচক শব্দ ব্যবহার করে পাল্টা মন্তব্য করেন।
আইনজীবীর যুক্তি ও আইনি লড়াই:
অজিত ভারতীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদরাই। তিনি যুক্তি দেন যে, এসসি/এসটি আইনের নির্দিষ্ট ধারাগুলি এই মামলায় প্রযোজ্য নয়, কারণ অভিযোগকারী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপমান বা ভয় দেখানো হয়নি। তাছাড়া কোনো নির্দিষ্ট বা চিহ্নিত এসসি/এসটি ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়নি এবং এই মন্তব্যগুলি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও দৃষ্টান্তমূলক ছিল। তবে আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলার গুরুত্ব বিচার করে আপাতত আইনি সুরক্ষা পেলেন না এই জনপ্রিয় ইউটিউবার।