এয়ার ইন্ডিয়ায় বড় রদবদল! দায়িত্ব নিলেন নতুন সিইও তেওল্ডে গেব্রেমারিয়াম, সংকটের মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর বড় পরিকল্পনা

টাটা গ্রুপের বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়াতে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন ও রদবদল শুরু হয়েছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রাক্তন গ্রুপ সিইও তেওল্ডে গেব্রেমারিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সিইও-মনোনীত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ টাউন হল সভায় টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন কর্মীদের সঙ্গে নতুন সিইও-র পরিচয় করিয়ে দেন। বিমান সংস্থাটি যখন তীব্র পরিচালনগত অসুবিধা এবং আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে, ঠিক সেই সময়েই তেওল্ডের এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন সিইও-র সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ:
দায়িত্ব গ্রহণের পরেই নতুন সিইও-র সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছে সমস্ত পরিচালনগত ঘাটতিগুলো দ্রুত নিরসনের উপর। ফ্লাইট নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রকৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সার্বিক পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা জোরদার করাই বর্তমানে তেওল্ডের শীর্ষ অগ্রাধিকার। এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের বিমানবহর সম্প্রসারণ করছে, তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এই ব্যাপক সম্প্রসারণ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো সংস্থার রয়েছে কি না। প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে তেওল্ডের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এয়ার ইন্ডিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জ্বালানির উচ্চমূল্য ও পথ পরিবর্তনের জেরে বাড়ছে চাপ:
চারদিক থেকেই বর্তমানে বহুমুখী চাপের মুখে পড়েছে এই বিমান সংস্থা। বিমানের জ্বালানির চড়া দাম এবং বেশ কিছু দেশের আকাশপথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প দীর্ঘ পথে পরিচালনা করতে হচ্ছে, যার ফলে ভ্রমণের সময় বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি তীব্র পাইলট সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খরচ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিমান সরবরাহের সময়সূচি পুনর্বূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং নতুন সিইও-র রিপোর্টের পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখরনের ৪-দফা ফর্মুলা:
টাউন হল বৈঠকে কর্মচারীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন জানান যে, কোম্পানির অন্দরে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিগত ১৮ মাস অত্যন্ত কঠিন ছিল স্বীকার করে তিনি জানান, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, তেলের মূল্যের রেকর্ড ওঠানামা এবং এআই১৭১ (AI171) দুর্ঘটনা সংস্থার সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি চারটি মূল ক্ষেত্রের ওপর জোর দিয়েছেন— যথা নিরাপত্তা, গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিচালনগত কার্যকারিতা এবং কঠোর ব্যয় শৃঙ্খলা। নিয়মকানুন নিখুঁতভাবে মেনে চলার জন্য তিনি কর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

আর্থিক সংকট মোকাবিলা ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা:
এয়ার ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই ২৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি পূরণ করতে টাটা সন্স প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে। এমনকি অংশীদার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সও অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করছে। ফলে কেবল বিমান পরিষেবা সচল রাখাই নয়, বরং বিপুল এই লোকসান রোধ করে ব্যবসাকে লাভজনক করে তোলা নতুন সিইও-র সামনে এক বিরাট পরীক্ষা হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *