আমেরিকায় বড় ধাক্কা কগনিজ্যান্টের! এক ঝটকায় ৫৫,০০০ কোটি টাকা উধাও, ধস নামল ভারতীয় শেয়ার বাজারে

ভারতীয় শেয়ার বাজারে গত কয়েক দিন ধরে চলা মন্থর গতি বুধবার একপ্রকার রক্তক্ষয়ী পতনে রূপ নিল। মার্কিন মুলুকে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন করে প্রশাসনিক কড়াকড়ি শুরু হওয়ার জেরে ভারতীয় বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘কগনিজ্যান্ট’-এর পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পিএলসি (PERM) আবেদনপত্র দাখিল করার প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলেই ভিসায় জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরাসরি ভারতীয় আইটি খাতের ওপর। আর এই ঝটকায় দেশের প্রথমসারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির বাজার মূল্যায়ন থেকে এক লহমায় প্রায় ৫৫,০০০ কোটি টাকা মুছে গিয়েছে।

সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে ইনফোসিস। এই সংস্থার শেয়ারের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। পাশাপাশি, টেক মাহিন্দ্রা, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং পারসিস্টেন্ট সিস্টেমস-এর শেয়ারের দামও প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পিছিয়ে নেই টিসিএস, এমফ্যাসিস, উইপ্রো এবং এলটিআই মাইন্ডট্রির মতো নামী সংস্থাও, যেগুলির শেয়ারের দাম প্রায় ২ শতাংশ করে কমেছে।

কেন এই হঠাৎ পতন?
মার্কিন শ্রম বিভাগের পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের অধীনে কগনিজ্যান্টের দাখিল করা আবেদনপত্র স্থগিত করার পরই এই ব্যাপক শেয়ার বিক্রি শুরু হয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করতে ইচ্ছুক নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই স্থগিতাদেশের কথা ঘোষণা করে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আমেরিকান কর্মীদের প্রতি কোনো রকম হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। হোয়াইট হাউসের অ্যান্টি-ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সহযোগিতায় এই জালিয়াতি এবং আর্থিক বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইন্সপেক্টর জেনারেল জানিয়েছে, ক্লাউডেরার পিএলসি ফাইলিংগুলোও একই কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

আমেরিকান স্নাতকদের জন্য কর্মসংস্থান নীতি:
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মী বাহিনী ব্যাপক হারে সম্প্রসারণের ঘোষণা করার ঠিক একদিন পরেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে পড়েছে কগনিজ্যান্ট। সম্প্রতি সংস্থাটি ১,৫০ জন আমেরিকান কলেজ স্নাতক নিয়োগের পাশাপাশি তাদের ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মী সংখ্যা ১৫, হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবি কুমার এস জানিয়েছেন, এআই যুগের জন্য নতুন আমেরিকান চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পিএলসি নিয়মের অধীনে, কোনো শূন্যপদের জন্য যোগ্য আমেরিকান কর্মী নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হলে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি বা কাজের পরিস্থিতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—তা যাচাই করা শ্রম বিভাগের জন্য বাধ্যতামূলক।

H-1B ও PERM-এর পার্থক্য:
উল্লেখ্য, পিএলসি সার্টিফিকেশন মূলত স্থায়ী চাকরি এবং গ্রিন কার্ডের সঙ্গে যুক্ত। এটি প্রচলিত H-1B প্রোগ্রাম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যা সীমিত সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পেশাদারদের মার্কিন সংস্থায় কাজের অনুমতি দেয়। পিএলসি স্থগিত মানেই সংস্থার এইচ-ওয়ান বি (H-1B) আবেদনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জল কত দূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর বিনিয়োগকারীদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *