‘বাঙালি কব্জি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাবে!’ পুজোয় আমিষ বিতর্ক নিয়ে দিলীপ-সজলদের পর মুখ খুললেন লকেট

বাগেশ্বর ধামের প্রধান সন্ত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর আমিষ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দুর্গাপুজো এবং নবরাত্রির সময়ে আমিষ স্টল বসা নিয়ে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। বাঙালি সংস্কৃতির খাদ্যাভ্যাসে গেরুয়া শিবির হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এবার কড়া ভাষায় মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তথা নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
হুগলির পাণ্ডুয়ায় একটি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে লকেট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুজোর দিনে বাঙালি যেমন পরম্পরা মেনে চলে আসছে, ঠিক সেভাবেই উৎসব পালন করবে এবং কব্জি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাবে। তাঁর কথায়, “বাগেশ্বর বাবা তাঁর মতো করে কথা বলেছেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বিরোধীরা সবসময় অপপ্রচার করার চেষ্টা করে যে বিজেপি এলে রাজ্যকে নিরামিষ করে দেওয়া হবে বা পুজোয় অনুদান বন্ধ হবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রমাণ মিলেছে যে পুজোয় অনুদানও হচ্ছে এবং বাঙালি নিজের সংস্কৃতি মেনেই সব ধরনের খাবার খাচ্ছে।”
বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে লকেট আরও জানান, মা দুর্গা বাপের বাড়ি আসেন আর সেই চারটে দিন আনন্দ করার মাধ্যমেই কাটানো হয়। অষ্টমীর অঞ্জলি, খিচুড়ি ভোগের পাশাপাশি নবমীতে আমিষ খাওয়া বাঙালির প্রাচীন পরম্পরারই অঙ্গ। এই ঐতিহ্য কেউ বদলাতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে বিধায়ক সজল ঘোষ ও দিলীপ ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। সজল ঘোষ তো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বাংলার সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অন্য কারও সার্টিফিকেট নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এবার লকেট চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে চর্চা আরও জোরালো হয়েছে।