আমেরিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে নেওয়া হলো? মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে যা বললেন অভিষেক সিংভি

জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ (NIA) মঙ্গলবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যান ডাইকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তবে গ্রেপ্তারের সময় সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়লেও, মার্কিন এই নাগরিকের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার জেরে কেন্দ্র তথা মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।
কংগ্রেসের প্রবীণ রাজ্যসভা সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর যদি সত্যিই ম্যাথিউ ভ্যান ডাইকের বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত দেশের সামনে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ এবং ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই মামলার সম্পূর্ণ শুনানির জন্য রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত আগামী ১ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে।
কে এই ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক?
ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইক একজন বিতর্কিত মার্কিন নাগরিক, যাকে আমেরিকার ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা, যা একটি অলাভজনক নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে পরিচিত এবং স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর আগেও লিবিয়া ও সিরিয়ার মতো বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে?
চলতি বছরের মার্চ মাসে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ম্যাথিউ ভ্যান ডাইককে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিককেও দিল্লি ও লখনউ বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভ্যান ডাইক মূলত ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তিনি ও তাঁর সহযোগীরা মিজোরামের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমারে চলে যান।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই দলটি ভারত হয়ে ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ভারতে নিয়ে আসে এবং সেই ড্রোন ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এমনকি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গেও এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। গ্রেপ্তারের প্রায় ছ’মাস পর এই মেগা চার্জশিট জমা পড়ার পর এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই সকলের নজর রয়েছে।