প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের জনসেবা! ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনে দেশজুড়ে মেগা কর্মসূচির ঘোষণা বিজেপির

আসন্ন ৭ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক ও জনজীবনের ২৫ বছর সম্পূর্ণ হতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলকটিকে দেশজুড়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করতে একগুচ্ছ বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বুধবার দিল্লির দলীয় সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আড়াই দশকের সুদীর্ঘ জনসেবা ও নিষ্ঠাকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে মেগা ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ শুরু করা হবে।
২০০১ থেকে ২০২৬—রূপান্তরের আড়াই দশক:
সংবাদ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ করে বিজেপি সভাপতি বলেন, ২০০১ সালের ৭ই অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের কার্যকাল শুরু করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তখন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত জনগণের সেবার মাধ্যমে দেশমাতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্রতে তিনি অবিচল রয়েছেন। তাঁর কার্যকালের শুরুতেই দেশ জুড়ে একপ্রকার নীতিগত স্থবিরতা ও হতাশার পরিবেশ বিরাজ করছিল, যেখানে ভারতকে ‘দুর্বল পাঁচটি অর্থনীতি’র অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু মোদীর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও কঠোর পদক্ষেপে আজ ভারত বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কী কী কর্মসূচি থাকছে এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ?
আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিবস থেকেই এই মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এর মূল উদ্দেশ্য সরকারের সাফল্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধান কর্মসূচিগুলি হলো:
আশীর্বাদের প্রদীপ: প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাতে দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে ও বুথে প্রদীপ জ্বালাবেন।
কলশ যাত্রা (ভাদনগর থেকে বারাণসী): প্রধানমন্ত্রীর জন্মস্থান গুজরাটের ভাদনগর থেকে শুরু করে তাঁর সংসদীয় কর্মস্থল উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত ‘জল, জন ও সেবা সংকল্প যাত্রা’ বা কলশ যাত্রা পরিচালিত হবে।
সেবা সেতু অভিযান: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প—যেমন আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষাণ কিংবা বার্ধক্য পেনশন—থেকে এখনও পর্যন্ত বঞ্চিত যোগ্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ডিজিটাল ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রতিটি ব্লক স্তরে বিশেষ শিবির বসবে।
অন্যান্য জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ: প্রায় এক মাস ধরে চলা এই অভিযানে ‘নমো সেবা গাথা’ পথনাটক, স্বাস্থ্য শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, যুব সংলাপ এবং ‘সেবা মেরা যোগদান’-এর মতো প্রায় ১৩টি প্রধান কর্মসূচি আয়োজিত হবে।
দারুণ সব অর্জনের খতিয়ান:
বিজেপি সভাপতির মতে, একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে দেশের ‘প্রধান সেবক’ হয়ে ওঠার এই যাত্রায় সমাজ জীবনে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। নকশালবাদ নির্মূলের পাশাপাশি রাম মন্দির থেকে কাশী বিশ্বনাথ—দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয় পুনরুদ্ধারেও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ কোটি দরিদ্র পরিবারকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে আনা, ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন প্রদান, ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, ১২ কোটি শৌচাগার নির্মাণ এবং ৪ কোটির বেশি গরিব মানুষের জন্য পাকা আবাসন তৈরি করার মতো যুগান্তকারী কাজগুলিই মোদী সরকারের বিগত আড়াই দশকের সবচেয়ে বড় জনমুখী সাফল্য বলে দাবি করা হয়েছে।