হোটেল-রেস্তরাঁয় কড়া অভিযান! এতদিন কি তবে ভেজাল খাবার খাচ্ছিলাম? মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

রাজ্যজুড়ে হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলির খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে চলছে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কড়া অভিযান। একের পর এক নামী-দামী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় জনমানসে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। প্রতিদিনের প্রাতঃভ্রমণের সময় এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করলেন পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, এতদিন ধরে মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে যা ইচ্ছে তাই চলেছে, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযানে একাধিক প্রতিষ্ঠান সিল হওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ পুরনো সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে নজর দেওয়া হয় না বলেই স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে, অথচ ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থাও নেই। বর্তমান সরকারের আমলেই সব ত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করে তিনি সাধারণ মানুষকেও প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুজোর আগে হোটেল এবং গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ জানান, এই মরশুমে প্রচুর মানুষ রাজ্যে আসেন। লাইসেন্স বাতিল হলে পর্যটকরা কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট পরামর্শ, হোটেল ব্যবসায়ীরা যেন অবিলম্বে পরিকাঠামো ঠিক করে লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন জানান, না হলে পুজোর অর্থনীতি ও পর্যটনে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সমুদ্রের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্রকৃতির ক্ষতি করলে নেপাল বা সিকিমের মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে রাজ্যকে।
রাস্তা সারাইয়ের কাজ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, পুজোর আগে ১০ অক্টোবরের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত খারাপ রাস্তা ঠিক করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দেশবিরোধী স্লোগান ওঠার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রবাদী ভাবধারায় ফিরিয়ে আনতে পজিটিভ ভাইব বা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।