৫জি নেটওয়ার্কের চোটে সরাসরি টাওয়ারে বাঁধা হল টেকনিশিয়ানকে! উত্তরপ্রদেশের এই ঘটনায় তোলপাড় নেটদুনিয়া

ফাইভ-জি (5G) নেটওয়ার্কের চরম বিপত্তি এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জেরে উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর জেলায় এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এক টেলিকম টেকনিশিয়ানকে সরাসরি মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গেই বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।
টাওয়ারে বেঁধে রাখার নেপথ্যে ক্ষোভ
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার ফতেপুরের বিন্দকি এলাকার হারদৌলী গ্রামে। আদিত্য ভান সিং নামের ওই টেলিকম টেকনিশিয়ান নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত একটি অভিযোগের সমাধান করতেই ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরে এবং জোর করে একটি মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, টেকনিশিয়ান আদিত্য ভান সিংকে টাওয়ারে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ দাবি ছিল, যতদিন না এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে এবং সংস্থার কোনো উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে এসে উপযুক্ত জবাব দিচ্ছেন, ততদিন ওই কর্মীকে ছাড়া হবে না।
দু’বছর ধরে ৫জি পরিষেবা নিয়ে ভোগান্তি
ফতেপুরের পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাঙ্গলিক জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ ছিল—গ্রামে একটি বেসরকারি টেলিকম টাওয়ার বসানো সত্ত্বেও গত প্রায় দুই বছর ধরে এলাকায় চরম নেটওয়ার্কের সমস্যা চলছে। বিশেষ করে ৫জি পরিষেবার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও প্রায়শই নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার জেরে ফোন কল করা তো দূর অস্ত, ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়াও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অথচ গ্রাহকদের নিয়মিত ৫জি-র রিচার্জের টাকা দিতে হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
৬ জন গ্রেফতার
এই ঘটনায় নির্যাতিত টেকনিশিয়ান আদিত্য ভান সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার অজ্ঞাতপরিচয় গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে পুলিশ। দ্রুত তদন্ত শুরু করে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬ জন গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করে।
ধৃতদের নাম— রাহুল প্যাটেল (২৮), সুরজ যাদব (২১), অলোক প্যাটেল (২৯), যোগেন্দ্র প্যাটেল (৩৬), অলোক যাদব (৩১) এবং সচিন প্যাটেল (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে টেলিকম সংস্থার পরিষেবা নিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ এবং টেকনিশিয়ানকে আটকের গোটা বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।