দুটি আসনে উপনির্বাচন! কার হাতে যাবে আসল প্রতীক? দ্বন্দ্ব তুঙ্গে অন্দরে

পুজোর আগেই রাজ্যের দুটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। বিরোধী দলগুলি যখন ভোটের ময়দানে ঝাঁপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন শাসক শিবিরে কোন্দল এবং দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। ভোট ঘোষণা হয়ে গেলেও লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগে নিজেদের ঘর সামলাতেই ব্যস্ত শাসক দল। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বেশ জটিল।
দলের অন্দরে বিভাজন এখন প্রকাশ্যে। একদিকে যেমন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির সক্রিয়, তেমনই অন্যদিকে শক্তিবৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী বা নব্য তৃণমূল শিবির। এই দুই পক্ষের লড়াই আদালত থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে ভোটের আগে আসল প্রতীক কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে পক্ষ প্রতীক পাবে, ভোটের লড়াইয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। অন্যদিকে, প্রতীক না পেলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যেতে পারে। নতুন প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে নামলে দ্রুত অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই নির্দল প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামতে হতে পারে।
প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের পাশাপাশি প্রার্থী পদ নিয়েও দুই শিবিরে চলছে তীব্র মাথাভাঙা। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—উভয় অঞ্চলেই পুরনো ও পরীক্ষিত কর্মী-সমর্থক রয়েছে। তবে সূত্রের খবর, পরিচিত মুখের অনেকেই এই মুহূর্তে সরাসরি ভোটের ময়দানে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, নব্য তৃণমূল শিবিরের ক্ষেত্রে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে সেই অর্থে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত বা চেনা মুখের খোঁজ মিলছে না। যদিও রেজিনগরে দুই শিবিরেরই উপস্থিতি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত উপনির্বাচনে লড়বে, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। তবে নব্য তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম আত্মবিশ্বাসী সুরে জানিয়েছেন, তারা দুটি আসনেই লড়াই করবেন এবং আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। দ্রুত প্রতীক হাতে পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। নব্য তৃণমূলের অপর নেতা আখরুজ্জামান দাবি করেছেন, দল হিসেবে তারা সক্রিয় রয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে লড়াইয়ে তারাই থাকবেন।
অন্যদিকে, এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছে এবং তারাই দুই আসনে প্রার্থী দিয়ে ময়দানে নামবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শীঘ্রই সামনে আসবে বলে জানা গিয়েছে।