২০ মাসে ২০টি সেতু ধস! একের পর এক ব্রিজ ভেঙে পড়ার মহোৎসবে কাঁপছে বিহার, কাঠগড়ায় কে?

বিহারে যেন বাঁধ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সেতু ভেঙে পড়ার অন্তহীন লীলখেলা চলছে। রাজ্যজুড়ে একের পর এক সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় ফের একবার তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। গত দুই বছরে অর্থাৎ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিহারে মোট ২০টি সেতু নদীগর্ভে বা মাটিতে ধসে পড়েছে। বৈশালী থেকে ভাগলপুর—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকাঠামোর এই চরম বেহাল দশা সরকারি নির্মাণকাজের মান এবং নজরদারি ব্যবস্থাকে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
গত দুই বছরে ২০টি সেতু ধস
পরিসংখ্যান বলছে, বিহারে সেতু বিপর্যয়ের গ্রাফটি অত্যন্ত ভীতিজনক। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ১৫টি সেতু ভেঙে পড়েছিল। এরপরে ২০২৫ সালে ৩টি এবং চলতি ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ২টি সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসটি রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়কর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যখন মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১৫টি সেতু ধসে পড়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল সুলতানগঞ্জ-অगुवानी ঘাটের চার-লেন বিশিষ্ট সেতুটি, যা তৈরির আগেই একাধিকবার নদীর জলে তলিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের অগাস্টে জামুই এবং নভেম্বরে অরিয়ার প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর পিলর বসে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, নতুন নির্মিত পরিকাঠামোও এখানে কতটা অনিরাপদ।
ভাগলপুর ও বৈশালীর সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা
চলতি বছরের মে মাসে ভাগলপুরের ঐতিহাসিক বিক্রমশীলা সেতুর একটি পিলর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিটার অংশ গঙ্গার বুকে তলিয়ে যায়। যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভীষণভাবে ব্যাহত করে। আর সম্প্রতি বৈশালীতে ঘটে যাওয়া সেতু দুর্ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার জেরে রাজ্যের বিরোধী দল তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দেগে অভিযোগ করেছেন যে, দুর্নীতির জেরে এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই একের পর এক সেতু ভেঙে পড়ছে। তাঁর দাবি, এই সমস্ত ঘটনায় বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।
আসল দোষী কে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পুনরাবৃত্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গোটা বিহারের সেতু নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার গভীরে থাকা পচনশীল দুর্নীতির এক নির্মম বহিঃপ্রকাশ। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনেও বিহারের সেতুগুলিকে “ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজে জর্জরিত” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, লাগাতার এই সেতু বিপর্যয়ের পর টনক নড়ে কি না প্রশাসনের এবং এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত আসল দোষীদের বিরুদ্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।