১৪ বছর পর ইতিহাসের দোরগোড়ায় পূর্বাঞ্চল! শামি-মুকেশের আগুনেই ছারখার দক্ষিণাঞ্চল

১৪ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের ঐতিহাসিক দোরগোড়ায় পূর্বাঞ্চল। চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে দলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলকে কার্যত কোণঠাসা করে রেখেছে ঈশান কিষাণের দল। প্রথম ইনিংসে পাহাড়প্রমাণ রান তোলার পর এবার বল হাতে আগুন ঝরালেন পূর্বাঞ্চলের ফাস্ট বোলাররা। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে প্রথম ইনিংসে এখনও ৪৬৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চল।
শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলের দাপট:
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই পূর্বাঞ্চলের ব্যাটাররা রাজত্ব শুরু করেন। প্রথম দিনে বৈভব সূর্যবংশী ও অভিমন্যু ঈশ্বরণের ঝোড়ো শুরুর পর ঈশান কিষাণদের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে পূর্বাঞ্চল তাদের প্রথম ইনিংসে তোলে বিশালাকার ৭০৮ রান। ১৪ মরশুম আগে এই চেন্নাইয়ের মাটিতেই শেষবার দলীপ খেতাব জিতেছিল পূর্বাঞ্চল। এবারও সেই চেনা মাঠেই জয়ের সুবাস পাচ্ছেন তারা।
শামি-মুকেশের আগুনে বোলিং:
ব্যাট হাতে পূর্বাঞ্চল বড় রান তোলার পর তৃতীয় দিনে বল হাতে নিজেদের জাত চেনালেন বাংলার দুই তারকা বোলার মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। নিজের শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নেমে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় বল রিভার্স সুইং করিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন শামি। নারায়ণ জগদীশন এবং সেট হয়ে যাওয়া দেবদত্ত পাড়িক্কালকে (অর্ধশতরান) সাজঘরে ফেরান তিনি। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দুরন্ত ফর্মে থাকা মুকেশ কুমার পান ২টি উইকেট।
তিলক বর্মার একার লড়াই:
পূর্বাঞ্চলের বোলিংয়ের মুখে পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাটারদের শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিনের শেষে দক্ষিণাঞ্চলের স্কোর ৬ উইকেটে ২৪২ রান। ক্রিজে এখনও ৫৬ রান নিয়ে লড়ছেন অধিনায়ক তিলক বর্মা। তিনিই এখন দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র আশা। তবে পূর্বাঞ্চলের রানের পাহাড়ের সামনে তাঁর এই প্রতিরোধ যথেষ্ট নয়। চতুর্থ দিনের শুরুতে পূর্বাঞ্চলের হাতে নতুন বল আসবে, যা ম্যাচের ভাগ্য চূড়ান্ত করে দিতে পারে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম ইনিংসের লিডই ম্যাচের ফয়সালা নির্ধারণ করে। ফলে ৪৬৬ রানে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। ১৪ মরশুম পর অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি তোলার স্বপ্নে এখন মশগুল ঈশান কিষাণ।