অ্যামাজনের মহা-সংকট! মাংসের লোভেই ধ্বংস হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস? চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অ্যামাজনের বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য (Amazon Rainforest) এবং সেরাডো সাবানা। কিন্তু আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ এখন দ্রুত ধ্বংসের মুখে। আর এই ধ্বংসের পেছনে কোনো কাঠ পাচারকারী বা শস্যের চাষ নয়, বরং মেষ ও গবাদি পশুর চারণভূমি তৈরির বাণিজ্যিক চাহিদাই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যানে উঠে এল ভয়াবহ তথ্য:

‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা’ (Our World in Data)-র তথ্য পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ২০০১ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে চাষবাস ও পশুপালনের জন্য যে পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে, তার মোট আয়তন যুক্তরাজ্যের আয়তনের প্রায় পাঁচ গুণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান হলো গোমাংস উৎপাদনের জন্য পশুপালনের জমি বা চারণভূমি তৈরি করা।

  • বিশ্বে কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে বন ধ্বংসের প্রায় ৪১ শতাংশই ঘটে গবাদি পশুর চারণক্ষেত্র তৈরির জন্য।

  • সয়াবিন বা পাম অয়েলের জন্য জঙ্গল কাটা হয় প্রায় ১৬ শতাংশ।

  • কাগজ ও কাঠের শিল্পের অবদান মাত্র ১২ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ব্রাজিল:

গবাদি পশু পালনের জন্য বিশ্বজুড়ে যত জঙ্গল কাটা হয়েছে, তার এককভাবে ৬৩ শতাংশই ঘটেছে ব্রাজিলে। অর্থাৎ সারা বিশ্বে চাষবাসের জন্য ধ্বংস হওয়া বনভূমির চার ভাগের এক ভাগই ব্রাজিলের গোমাংস শিল্পের সাথে যুক্ত। ২০০৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্রাজিলে পশুপালনের জন্য প্রায় ২.৭ কোটি হেক্টর জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে, যা দেশটির মোট বনভূমি ধ্বংসের প্রায় ৮৭ শতাংশ।

বিদেশের রফতানি নয়, দায় নিজেদের চাহিদারই:

সাধারণত ধারণা করা হয় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদাতেই এমন পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ব্রাজিলের চিত্রটা পুরোপুরি আলাদা। তথ্যে দেখা গেছে, পণ্য উৎপাদনে বন ধ্বংসের প্রায় ৮৫ শতাংশই ঘটেছে দেশের ভেতরের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য। বাকি ১৫ শতাংশ যুক্ত ছিল বিদেশের রফতানির সাথে। গত ৫০ বছরে ব্রাজিলে মাথাপিছু মাংস খাওয়ার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে একজন গড় ব্রাজিলীয় নাগরিক ইউরোপের যেকোনো নাগরিকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গোমাংস গ্রহণ করেন।

সমাধানের পথ কী?

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আন্তর্জাতিক চাপ বা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অ্যামাজন রক্ষা করা সম্ভব নয়। ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক উপায়ে বর্তমান চারণভূমিগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কঠোর পরিবেশ নীতি গ্রহণ করাই এই মহা-সংকট মোকাবিলার একমাত্র পথ। তা না হলে পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত অ্যামাজনের ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখেই থেকে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *