নিজের বাড়ি উপহার দিতে ৪.৭ লাখ টাকা সংগ্রহ! ভারতীয় পরিচারিকার পাশে দাঁড়িয়ে মন জিতলেন বিদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর

দূর দেশে কাজের সূত্রে যাওয়া এক ভারতীয় মহিলার দুঃখের কাহিনী ও মানবিকতার এক অনন্য গল্প স্পর্শ করেছে লাখ লাখ মানুষের হৃদয়। হংকংয়ের এক তরুণী সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর তাঁর ভারতীয় পরিচারিকা ও বান্ধবী মরিয়ম শেখের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। মরিয়মের নিজের একটা স্থায়ী স্বপ্নের বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি একটি গণ-অর্থসংগ্রহ (ক্রাউডফান্ডিং) অভিযান শুরু করেছেন, যার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে প্রায় ৪.৭ লাখ টাকা।

শৈশব থেকে অমানবিক নির্যাতন ও শোষণ:

ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে হংকংয়ের বাসিন্দা আবির তবখি প্রকাশ করেছেন মরিয়মের জীবনের আড়ালের চরম ট্র্যাজেডি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মরিয়মকে একটি পরিবার দত্তক নিলেও, ভালোবাসা পাওয়ার বদলে জুটেছিল চরম দাসত্ব। বছরের পর বছর তাঁকে দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করানো হতো এবং তাঁর উপার্জিত সমস্ত অর্থ কেড়ে নেওয়া হতো। শুধু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনই নয়, মরিয়মের গায়ের রঙ নিয়ে অসংবেদনশীল ঠাট্টা-বিদ্রূপও চলত প্রতিদিন। চরম দুর্ভোগ সহ্য করে সেই বন্দিদশা থেকে মুক্ত হলেও মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো বাসস্থান তাঁর নেই।

স্বামীর মারণব্যাধি ও আত্মত্যাগের কাহিনী:

দুর্ভোগের মেঘ কেটেও কাটেনি মরিয়মের জীবন থেকে। তাঁর স্বামী বর্তমানে এক মারাত্মক ও অনারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। স্বামীর চিকিৎসার বিপুল খরচ জোগাতে মরিয়ম তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ও উপার্জন নিঃশেষ করে দিচ্ছেন। এত দুঃখ-কষ্ট ও অভাবের মধ্যেও তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে এবং অত্যন্ত দয়ালু মনোভাব নিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান। তাঁর এই অবিশ্বাস্য মানসিক জোর ও নিষ্ঠাকে সম্মান জানাতেই আবির এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

নেটদুনিয়ায় প্রশংসার জোয়ার:

‘গো-ফান্ড-মি’ (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য প্রায় ৫৭ লাখ টাকা (৪,৫০০ পাউন্ড) সংগ্রহ করা। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আড়াই শতাধিক মানুষ মুক্তহস্তে দান করেছেন। আবিরের এই মানবিকতা এবং মরিয়মের লড়াই করার ক্ষমতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছ নেটদুনিয়া। জীবনের চরম অন্ধকার কেটে মরিয়ম শীঘ্রই নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা পাবেন—এই প্রার্থনাই করছেন সবাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *