কলকাতা পুরভোটের আগেই কালীঘাটে ধামাকা! সুকান্তর চাঞ্চল্যকর মাস্টারপ্ল্যানে ব্যাকফুটে তৃণমূল?

একুশের পুরসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়ার্ডে প্রচার করতে এসে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। অপমানিত হয়ে সে দিন ‘চোখের জল’ ফেলার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা আজও ভুলে যায়নি গেরুয়া শিবির। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরেছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি বিপুল সাফল্য পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। আর এবার আসন্ন কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের দায়িত্ব বা ‘ইনচার্জ’ পেয়েই সোজা কালীঘাটের মাটিতে পা রেখে হুঙ্কার দিলেন তিনি।
মমতা-ফিরহাদের শক্ত ঘাঁটিতে বিশেষ বৈঠক:
মঙ্গলবার কালীঘাটের জয় হিন্দ ভবনে কলকাতা পুরসভার ১৩৬ নম্বর (সাবেক ৭৩ নম্বর—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়ার্ড) এবং ১৩৮ নম্বর (সাবেক ৮২ নম্বর—ফিরহাদ হাকিমের ওয়ার্ড) ওয়ার্ডের বাছাই করা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন সুকান্ত মজুমদার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
বৈঠক সূত্রে খবর, সুকান্ত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানান, অতীতে এই এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কাছে তাঁদের হারতে হলেও এবার গণতান্ত্রিক পথেই তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়ার্ডেই তৃণমূলকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে আনাই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য।
একুশের সেই তিক্ত স্মৃতি ও বর্তমান লড়াই:
একুশের নির্বাচনে প্রচারের উদ্দেশ্যে সুকান্ত মজুমদার যখন এই এলাকায় গিয়েছিলেন, তখন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতার পার্টি অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সুকান্তকে প্রচার পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
তবে সেই সন্ত্রাসের দিন পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের লড়াইয়ে জিততে মরিয়া বিজেপি। সেই কারণে পুরভোটের ঢাক বাজার আগেই বুথ স্তর থেকে ঘুঁটি সাজানো শুরু করে দিয়েছেন নতুন ‘ইনচার্জ’ সুকান্ত মজুমদার।
দ্বন্দ্বের আগুনে জেরবার বিরোধী শিবির:
অন্যদিকে, আসন্ন উপনির্বাচন ও পুরভোটের আগে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে রাজ্য তৃণমূল এখন দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে কালীঘাট গোষ্ঠী এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী। দলীয় দ্বন্দ্ব আদালত থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায় এই মুহূর্তে দলের প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রতীক না পেলে তৃণমূলের একাংশকে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়াতে হতে পারে বলেও জল্পনা তুঙ্গে। জোড়াফুল শিবিরের এই চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়েই এবার কলকাতা পুরসভার দখল নিতে অল-আউট ঝাঁপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি।