খাবারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ! শহরের একাধিক নামজাদা খাবারের দোকানে তালা ঝোলালো পুরসভা

দুর্গাপুজোর মুখে উৎসবের মরশুমে শহরের খাদ্য রসিকদের জন্য বড় খবর। কলকাতা জুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরের কড়া অভিযানের মুখে শহরের একাধিক নামী ও নামজাদা রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকান। কলকাতা পুরসভার বিশেষ অভিযানে গত এক সপ্তাহে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ম অমান্য করায় আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।

বড় বড় নামের তালিকায় তালা: পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ’ উপলক্ষে শহরজুড়ে অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা টিম। মোট ৫৯২টি ছোট-বড় খাবার প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় এই টিম। অভিযান শেষে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এই তালিকার মধ্যে শহরের বেশ কিছু অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক নামও রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— ‘ডন জিওভানি’স’, ‘করিম’স’, ‘সিমলা রেস্তোরাঁ’, ‘বিহার রেস্তোরাঁ’, ‘বিগ বস’, ‘নিজাম রেস্তোরাঁ’, ‘বলরাম মল্লিক অ্যান্ড রাধরমণ মল্লিক’, ‘মিষ্টি মুখ’, ‘জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ এবং ‘শ্রীহরি ফুড’।

সাসপেন্ড মানেই কি চিরতরে বন্ধ? অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কি প্রিয় দোকানগুলি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল? এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। তিনি বলেন, “সাসপেন্ড করার অর্থ এই নয় যে দোকানগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই দোকানগুলো যদি লাইসেন্স ফেরত পেতে চায়, তবে তাদের পুরসভার কাছে নতুন করে আবেদন জানাতে হবে। আবেদনের পর পুরসভার প্রতিনিধি দল পুনরায় রেস্তোরাঁ বা দোকান পরিদর্শন করবে। তারা যদি দেখে যে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম সঠিকভাবে মানা হচ্ছে, তবে পুনরায় লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”

কেন নেওয়া হলো এই কড়া ব্যবস্থা? পুর কমিশনার জানান, মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা ‘হাইজিন’-এর অভাবেই এই পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছে পুরসভা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রান্নার জায়গা ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে কতটুকুই বা সময় লাগে? এটি একেবারেই সচেতনতার বিষয়।

উল্লেখ্য, এই অভিযানে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বড় রেস্তোরাঁই নয়, নজর দেওয়া হয়েছিল ফুটপাতের জনপ্রিয় খাবার জায়গা ও বাজারগুলিতেও। ডেকাস লেন, রাজা কাটরা বাজার, মাছের বাজার, ছানা পট্টি থেকে শুরু করে কলকাতা রোয়িং ক্লাব এবং তাজ হোটেলের মতো জায়গাতেও কড়া নজরদারি চালায় পুরসভার টিম। খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *