খুনের এতদিন পরেও মূল অভিযুক্ত অধরা! জেলাশাসকের দফতরে তীব্র বিক্ষোভ, বুলডোজার হুমকির মুখে সিজেপি

ইন্দাসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে এলাকায়। নির্মম এই ঘটনার বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। এই ঘটনায় শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাজপথে নামল সিজেপি। পুলিশি বাধার মুখে পড়ে জেলাশাসকের দফতরের সামনেই অবস্থান ধরনায় বসেন দলের কর্মী ও সমর্থকরা।
তিন দফা দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা: এদিন জেলাশাসকের দফতর অভিমুখে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন সিজেপি-র প্রতিনিধিরা। তবে দফতর প্রাঙ্গণে পৌঁছনোর আগেই পুলিশ ব্যারিকেড গড়ে মিছিল আটকে দেয়। এর পর ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় বসেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। আন্দোলনকারীদের মূল তিনটি দাবি হলো—
-
১. ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
-
২. নিহত মাফিক (সিজেপি কর্মী শেখ আবদুল হাফিজের বাবা)-এর স্মরণে এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে।
-
৩. নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
পুলিশের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ: আন্দোলনে যোগ দিতে আসা কর্মীদের পথে পথে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের নেতারা। সিজেপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক প্রেম আকাশ অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের আন্দোলন দমন করতে কর্মীদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। তবে এই ধরনের হুমকিতে আমরা পিছপা হব না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রাঙ্গণেই শান্তিপূর্ণ ধরনা চলবে।”
অন্যদিকে নিহতের ছেলে তথা সিজেপি কর্মী শেখ আবদুল হাফিজ বলেন, “আমার বাবার প্রকৃত হত্যাকারীরা আজও খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের উপযুক্ত শাস্তি এবং আমার বাবার নামে একটি উন্নত মানের স্কুল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সংগ্রাম থামবে না।”
প্রশাসনের আশ্বাসের অপেক্ষায় জেলাশাসকের দফতর প্রাঙ্গণে এখনও অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।