দিল্লিতে বহুতল ধসে প্রাণ হারালেন ৭ জন! হস্টেল সংকটের কারণেই কি এই ট্র্যাজেডি? কড়া পদেক্ষেপ মানবাধিকার কমিশনের

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাস সংলগ্ন সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পাঁচতলা পেয়িং গেস্ট (পিজি) বহুতল ধসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাতজন পড়ুয়া। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজনের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এবার অত্যন্ত কড়া মনোভাব গ্রহণ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী হস্টেলের চরম অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি দিল্লি সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছ থেকে জবাব তলব করেছে এনএইচআরসি।
কমিশনের কড়া নির্দেশ ও ডেডলাইন: প্রিয়ঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বেঞ্চ দিল্লি সরকার ও ইউজিসি-কে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কেবল নতুন হস্টেল নির্মাণই নয়, বিদ্যমান হস্টেলগুলোর সংস্কার, আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সত্য নিকেতনে? রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সত্য নিকেতন এলাকায় একটি পুরনো পাঁচতলা পিজি বহুতলে সংস্কারের কাজ চলছিল। সেই সময় হঠাৎই পুরো ভবনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এ পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ৭ জন পড়ুয়া মারা যান।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার: এই দুর্ঘটনার পরপরই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দায়ে বিল্ডিংয়ের মালিক হরিরাম গুপ্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।