৩০ ঘণ্টা ধরে বন্ধ রেল চলাচল! পরিস্থিতি সামলাতে কী মাস্টারস্ট্রোক নিল সরকার?

ফরাক্কা জংশন স্টেশনের কাছে রেললাইনের নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে একাধিক ট্রেন বাতিল হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে শিলিগুড়িতে আটকে থাকা পর্যটকদের সাহায্যের জন্য সরকারি আবাসনে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পর্যটন দপ্তরের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পর্যটকদের আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত বাস পরিষেবার ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শিলিগুড়ি ও এনজেপি থেকে শিয়ালদহ এবং হাওড়াগামী রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে কলকাতা বা অন্যান্য জেলায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া বহু পর্যটক মাঝপথেই আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আটকে থাকা সমস্ত ট্রেনের যাত্রীদের মাঝে শুকনো খাবার ও পানীয় জল বিতরণের পাশাপাশি রাতেই তাঁদের সরকারি আবাসন, অথবা প্রয়োজনে হোটেল বা বাণিজ্যিক লজ ভাড়া করে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে উত্তরবঙ্গমুখী রেললাইনের একাংশে বড় ধরনের ধস নামে। রেললাইনের নীচের মাটি হঠাৎ সরে যাওয়ায় আকস্মিক এই বিপত্তি ঘটে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন মেরামতির কাজে নামে রেল। তবে দুর্ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি সারাইয়ের কাজ শেষ হয়নি।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার দুপুরে নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। সেখানে গিয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনের পর সাংসদ দাবি করেন, যেভাবে দ্রুত কাজ চলছে তাতে শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যেই রেল চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলেই ফরাক্কার কাছে আপ রেললাইনটি বসে গিয়েছিল এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো গেছে বলে জানান তিনি। রেলকর্মীদের তৎপরতার প্রশংসা করে খগেন মুর্মু বলেন, ইঞ্জিনিয়াররা রাতদিন এক করে কাজ করছেন, তাই খুব শীঘ্রই যাত্রীরা স্বস্তি পাবেন।