ইউপিআই (UPI)-এর মতো পেমেন্ট সিস্টেমে বড় বিপ্লব! বিশ্ব অর্থনীতি বদলাতে নয়া দিল্লিতে আসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন

বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য কমিয়ে নতুন আর্থিক বিকল্প গড়ে তুলতে এবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসতে চলেছে এক ঐতিহাসিক ও হাই-প্রোফাইল বৈঠক। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলেছে প্রথম ‘আইব্রিকস সামিট’ (iBRICS Summit)। এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম তহবিল (Sovereign Wealth Funds), পেনশন ফান্ড এবং বড় বড় পারিবারিক বিনিয়োগ সংস্থা অংশ নিতে চলেছে, যেগুলির সম্মিলিত মূলধনের পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ কোটি ডলার।
সামিটের মূল এজেন্ডা: নন-ডলার লেনদেন ও পেমেন্ট সিস্টেম
সোভেরেন ওয়েলথ ফান্ড ইনস্টিটিউট (SWFI)-এর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানত আন্তঃসীমান্ত বিনিয়োগ, মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রায় বা বিকল্প উপায়ে লেনদেন (Non-dollar settlements) এবং পেমেন্ট সিস্টেমের আন্তঃসংযুক্তকরণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে শুল্ক নীতি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক করিডোরগুলিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলায় এই বৈঠক এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়া ভারতের ইউপিআই (UPI) এবং ব্রাজিলের পিক্স (Pix)-এর মতো জনপ্রিয় জাতীয় দ্রুত পেমেন্ট সিস্টেমগুলিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সিগুলির (CBDC) পারস্পরিক সমন্বয় নিয়েও বিশদ আলোচনা হবে।
ভারতের সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক আয়োজন
চলতি বছরে ব্রিকস (BRICS)-এর chairmanship বা সভাপতিত্ব করছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মানবতা প্রথম’ (Humanity First) দর্শনের ওপর ভিত্তি করে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে— “বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাস্টেনবিলিটি”।
আসন্ন এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০০-রও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, অর্থমন্ত্রী এবং শিল্পপতি অংশ নেবেন। এছাড়াও আগামী ১২ সেপ্টেম্বর একটি বিশেষ ‘সোভারেন ক্যাপিটাল কমপ্যাক্ট’ (Sovereign Capital Compact) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুঁজি বিনিয়োগকে সঠিক দিশা দেখাতে এই মেগা সামিট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছে অর্থনৈতিকমহল।