ইরানকে একঘরে করতে মার্কিন ‘মাস্টারস্ট্রোক’! নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই গর্জে উঠল চিন

বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একঘরে করে দিতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নীতি কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ানোর এই কৌশলের অংশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অভিযোগে একাধিক চিনা কোম্পানি এবং নাগরিকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে বেইজিং।
গত বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়াং লিং এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এর পেছনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অনুমোদন নেই। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকেও চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। নিজের দেশের নাগরিক ও কোম্পানিগুলির বৈধ অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং অবিচল থাকবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, আমেরিকা ও চীনের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে পূর্বে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছিল, উভয় দেশেরই উচিত যৌথভাবে সেগুলি বাস্তবায়ন করা এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মার্কিন-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই চিনা বিদেশ মন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ইরান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মদত জোগানোর অভিযোগে চিনা সংস্থা ও ব্যক্তিদের নিশানা করে চলেছে আমেরিকা। অস্ত্রব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করা ছাড়াও চিনা বাজারে ইরানি তেল বিক্রি এবং পরিবহনে মধ্যস্থতা করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মার্কিন প্রশাসন। আর এর জেরে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে আমেরিকা ও চীনের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নতুন করে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।