ভোটার কার্ড থেকে প্যান কার্ড— মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সমস্ত আইডেন্টিটি প্রুফ নিয়ে কী করতে হয় জানেন কি?

নাগরিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং ভোটার আইডির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রগুলির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা থেকে শুরু করে যেকোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া— সবকিছুর জন্যই এই নথিগুলি বাধ্যতামূলক। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রগুলির ঠিক কী পরিণতি হয়? আইন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই নথিগুলি নিয়ে কী করা উচিত, তা জেনে রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের পক্ষ থেকেই অত্যন্ত জরুরি।

আধার কার্ডের ক্ষেত্রে কী নিয়ম রয়েছে?

ভারতীয় নাগরিকদের জীবনের অন্যতম প্রধান পরিচয়পত্র হলো আধার কার্ড। তবে ব্যক্তির মৃত্যুর পর আধার কার্ড সরাসরি ‘সারেন্ডার’ বা সমর্পণ করার কোনো প্রচলিত বা আলাদা ব্যবস্থা নেই। সাধারণত, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার স্থানীয় পৌরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে অফিসিয়াল ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। বর্তমান ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সরাসরি আধার ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ফলে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য আধার সিস্টেমে নথিভুক্ত হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট আধার নম্বরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় বা ডিঅ্যাক্টিভেট হয়ে যায়। এর ফলে মৃত ব্যক্তির আধার পরিচয় বা বায়োমেট্রিক ডেটার কোনো রকম অবৈধ অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

প্যান কার্ড নিয়ে কী করণীয়?

আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য প্যান কার্ড অত্যন্ত জরুরি একটি নথি। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের প্রয়াণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তাড়াহুড়ো করে প্যান কার্ড বাতিল করে দেওয়া উচিত নয়। মৃত ব্যক্তির নামে যদি কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক বিনিয়োগ বা বকেয়া ইনকাম ট্যাক্স রিফান্ড আটকে থাকে, তবে সেই সমস্ত আর্থিক প্রক্রিয়া ও আইনি লেনদেন সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্যান কার্ডটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা উচিত। সমস্ত আইনি ও আর্থিক কাজকর্ম মিটে যাওয়ার পর, মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকারীরা আয়কর বিভাগের কাছে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে প্যান কার্ড জমা দিতে পারেন। যদিও এটি সবসময় বাধ্যতামূলক নয়, তবুও যেকোনো ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বা জালিয়াতি রোধ করার স্বার্থে মৃত্যুর পর প্যান কার্ড সমর্পণ করাই শ্রেয়।

ভোটার আইডি কার্ড বাতিল করার পদ্ধতি

মৃত ব্যক্তির ভোটার পরিচয়পত্রের অপব্যবহার রোখার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিক (ERO)-এর কাছে ডেথ সার্টিফিকেটের একটি কপি এবং নির্দিষ্ট ‘ফর্ম ৭’ (Form 7) জমা দিয়ে খুব সহজেই মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে চিরতরে বাদ দেওয়া সম্ভব।

পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কী হয়?

পাসপোর্টের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বৈধতার মেয়াদ থাকে। সেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে পাসপোর্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করার জন্য আলাদা করে কোনো আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার পরই তা বাতিল বলে গণ্য করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *