আমেরিকা মানেই কি শুধু গ্ল্যামার? প্রবাসীর ফাঁস করা মার্কিন গৃহিণীদের গোপন ও কঠিন বাস্তব জেনে চোখ কপালে উঠবে!

পার্ক কিংবা পাড়ায় আড্ডা, চায়ের কাপে আঠার মতো সেঁটে থাকা বা চোখের পলকে পাশের বাড়ির মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার অভ্যাস ভারতীয় সংস্কৃতিতে বেশ পুরোনো। কিন্তু এই চিরচেনা পরিবেশ ছেড়ে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে থাকতে শুরু করলে সেখানকার গৃহিণীদের জীবন আসলে কেমন হয়? মার্কিন মুলুকে গিয়ে কি সহজে বন্ধু পাওয়া যায়? আমেরিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে থাকা সমস্ত গ্ল্যামারের ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্প্রতি সেখানকার একাকীত্ব এবং কঠিন বাস্তবের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন শিপ্রা নামের এক প্রবাসী ভারতীয় নারী।
আমেরিকায় প্রায় চার বছর ধরে বসবাসকারী শিপ্রার দাবি অনুযায়ী, আমেরিকার পার্কগুলোর ছবিটা ভারতের ঠিক উল্টো। সন্ধ্যার সময় সেখানকার পার্কগুলো একেবারে ফাঁকা থাকে, কালেভদ্রে দু-একটি শিশু খেলতে আসে। ফলস্বরূপ, মার্কিন গৃহিণীদের জীবন অত্যন্ত একঘেয়ে ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বভাবগতভাবে একটু লাজুক বা কম কথা বলা মানুষ হলে আমেরিকা গিয়ে বন্ধু জুটবে না বললেই চলে।
আমেরিকার অধিবাসীদের বন্ধুপ্রীতি নিয়েও বড় সত্যি সামনে এনেছেন শিপ্রা। তাঁর কথায়, আমেরিকানরা ভারতীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে খুব একটা আগ্রহী হন না। দেখা হলে দূর থেকে কেবল ‘হ্যালো’ বলেই তাঁরা সেরে নেন। এমন ভাব দেখান যেন তাঁরা আপনাকে খুব ভালো চেনেন, অথচ আসল সত্য হলো—তাঁরা কখনও নিজেদের নামটুকুও আপনার সঙ্গে ভাগ করে নেবেন না। এমনকি ভিন্ন সংস্কৃতির কারণে ভারতীয় পরিবারগুলির মধ্যেও ভাষা অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
পাশাপাশি, আমেরিকায় কাজের কোনো শেষ নেই। যৌথ পরিবারের অনুপস্থিতি এবং পরিচারিকার সাহায্য ছাড়া ঘরকন্না, লন্ড্রি, বাসন মাজা থেকে শুরু করে রান্না—সব কাজ নিজের হাতেই সামলাতে হয় নারীদের। তবে শিপ্রার দাবি, পুরুষদের জীবন এর চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও একপ্রকার ‘নরকতুল্য’। অফিস সামলানোর পাশাপাশি মুদিখানা থেকে শুরু করে জলের বোতল বা ভারী জিনিস বয়ে আনা, জঞ্জাল ফেলা থেকে গাড়ি পরিষ্কার করা—সব দায়িত্বই তাঁদের কাঁধে। ভারতের মতো হাতের কাছে বাজার না থাকায় প্রতিটি ছোটখাটো জিনিসের জন্য গাড়ি চালিয়ে অনেক দূরে ছুটতে হয় পুরুষদের। তবে সপ্তাহের এই চরম ব্যস্ততা ও একঘেয়েমির পর উইকেন্ড বা ছুটির দিনগুলোতে পরিবারকে নিয়ে বাইরে ঘুরে খানিকটা স্বস্তি খোঁজেন মার্কিন মুলুকের প্রবাসীরা।