“যাহা TMC, তাহাই BJP”-উত্তম-মঞ্চে একের পর এক Viral Reel দেখে কি বলছে নেটিজেনরা?

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন। মঞ্চের রঙ নীল-সাদা থেকে গেরুয়া-সাদা হলেও পাত্র-পাত্রী বদলায়নি। বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচীর গাওয়া গানে তাল মেলাতে দেখা গেছে ওই কেন্দ্রেরই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে ইন্দ্রাণী হালদার এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের মতো তারকারা, যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেই দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

তৃণমূল জমানায় দলের বিভিন্ন সভা বা সরকারি অনুষ্ঠানে তারকাদের উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। লোকসভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের অনেকেই পেয়েছিলেন দলীয় টিকিট। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সেই চিরচেনা মুখগুলিকেই এখন দেখা যাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অনুষ্ঠানে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মনে পড়ে যাচ্ছে প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সেই চর্চিত মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন তৃণমূল ও বিজেপি আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

ঘটনার আকস্মিকতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠলেও নিজের অবস্থানে অনড় বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচী। রাজ চক্রবর্তীকে পাশে নিয়ে ‘পৃথিবী বদলে গেছে…’ গান গাওয়ার পর তাঁর সাফাই, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সংস্কৃতি জগতকে বিভাজনের চোখে দেখেন, কিন্তু তাঁরা সেই সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নন। এটি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ ছিল না বলে দাবি করে তিনি জানান, ভোট মিটে যাওয়ার পর জনপ্রতিনিধিরা সকলের জন্যই কাজ করেন এবং একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে যাঁরা থাকতেন, তাঁদের এখানে আসার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি নেই। অথচ বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তুলেছিলেন কৌস্তব।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর বিজেপির অন্দরেই ‘ভালো তৃণমূলী’দের দলে স্বাগত জানানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দলের একাংশের মতে, চোখের সামনে রোজ যেভাবে পুরনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের রং বদলাতে দেখা যাচ্ছে, তাতে কর্মী-সমর্থকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়। সব মিলিয়ে, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের এই জমকালো অনুষ্ঠান বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণ এবং নীতিগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *