৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কালো টাকা! কোথায় লুকিয়ে রয়েছে বিশ্বের এই বিশাল সম্পদ?

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অপরাধ এবং কালো টাকার কারবার এক বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। এই বিশাল অঙ্কের অবৈধ অর্থের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, তা দিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য একটি করে ল্যাপটপ কিনে ফেলা সম্ভব এবং তারপরেও অর্থ অবশিষ্ট থাকবে। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত ৪৩তম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অপরাধ সিম্পোজিয়ামে (International Symposium on Economic Crime) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত।
৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে কালো টাকা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া কালো টাকার পরিমাণ ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এই অবৈধ অর্থের পরিমাণ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক জিডিপিতেও (GDP) এর অংশীদারিত্ব ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
সিজেআই সূর্যকান্ত জানান, অবৈধ অর্থের এই রমরমা কারবার বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হারের চেয়েও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
১০০ টাকার মধ্যে উদ্ধার হয় মাত্র ১ টাকারও কম
কালো টাকার এই সমস্যার সবচেয়ে ভয়ের দিক হলো— এর খুব সামান্য অংশই সরকারের পক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রধান বিচারপতির মতে, সবচেয়ে উদার অনুমান অনুযায়ীও প্রতি ১০০ টাকার অবৈধ সম্পত্তির মধ্যে মাত্র ১ টাকারও কম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি ৯৯ অংশই কেবল ফাইলবন্দী বা রিপোর্টের পাতাতেই থেকে যায়।
আর্থিক অপরাধের এই পরিধি কেবল মানি লন্ডারিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্যে রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধ, বড় বড় দুর্নীতি, মাদক ও মানব পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো গুরুতর বিষয়গুলিও।
ভারতেও বাড়ছে অর্থনৈতিক অপরাধের গ্রাফ
বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেই আর্থিক অপরাধের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশে নথিভুক্ত অর্থনৈতিক অপরাধের সংখ্যা ২০১৮ সালের ১,৫৬,২৬৮ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ২,১৪,৩৭৯টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতির (Fraud) পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
অর্থনৈতিক অপরাধের বিস্তার: অপরাধের মাত্রা বাড়লেও জালিয়াতির মোট পরিমাণের তুলনায় পুনরুদ্ধারের হার এখনও বেশ কম।
-
সীমানা ছাড়িয়ে চলা চক্র: সিজেআই সূর্যকান্ত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কালো টাকার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো— অপরাধীরা অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিজ দেশে না রেখে বিদেশে পাচার করে দেয়, যার ফলে তা ট্র্যাক করা এবং উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেবল নিজ দেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন দেশ, আদালত এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও জোরালো তালমেল গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি।