চাকরি বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাধ্যতামূলক, অথচ টেটের ফর্ম ফিলাপ করলেন মাত্র ১২ হাজার শিক্ষক!

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ— শিক্ষক হতে গেলে পাশ করতেই হবে টেট (TET)। আর এই নির্দেশ না মানলে চাকরি যাওয়া পর্যন্ত পাকা। অথচ এই মারাত্মক হুমকির মুখে দাঁড়িয়েও মধ্যপ্রদেশের প্রায় দেড় লক্ষ শিক্ষক যেন এক অদ্ভুত দূরত্ব বজায় রেখেছেন শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (TET 2026) থেকে। মধ্যপ্রদেশ এমপ্লয়মেন্ট সিলেকশন বোর্ডের (MPESB) তরফে আবেদন জমা দেওয়ার প্রথম দফার সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও, রাজ্যের ১.৫ লক্ষ নন-টেট শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১২ হাজার জন ফর্ম ফিলাপ করেছেন। এই নজিরবিহীন উদাসীনতা ও বয়কটের মনোভাব ঘিরে এখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

আসলে সমস্যাটি কোথায়?

গত বছরের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, দেশের সমস্ত সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য TET পাশ করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষা আইন ২০০৯-এর নিয়মের আওতায় ২০০৯ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া দেশের প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষককে এই পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রাজ্যটির প্রায় ১.৫০ লক্ষ শিক্ষক এখনও নন-টেট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, যাঁদের ২০২৮ সালের মধ্যে এই পরীক্ষায় পাশ করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

কিন্তু এত বড় একটা তলোয়ার মাথার ওপর ঝুললেও শিক্ষকরা কেন পরীক্ষা থেকে দূরে সরে রয়েছেন? খতিয়ে দেখা গিয়েছে মূলত দুটি বড় কারণ:

  1. অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি-র বিরোধ: MPESB প্রতি পেপারের জন্য ১০০০ টাকা করে ফি ধার্য করেছে। এর ফলে দেড় লক্ষ শিক্ষককে প্রায় ১৫ কোটি টাকা শুধু ফি বাবদই দিতে হবে, যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।

  2. অর্ডিন্যান্স আনার জোরালো দাবি: সুপ্রিম কোর্টের এই বাধ্যতামূলক নিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। গত ৩০ আগস্ট খোদ দিল্লিতে মধ্যপ্রদেশের শিক্ষকরা সহ দেশের বহু শিক্ষক বিশাল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র সরকার যেন এই রায় খারিজ করতে অবিলম্বে বিশেষ অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ আনে।

বাড়ানো হয়েছে আবেদনের সময়সীমা

প্রাথমিকভাবে আবেদনের শেষ তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হলেও মাত্র ১২ হাজার আবেদন জমা পড়ায় বোর্ডের টনক নড়ে। বাধ্য হয়েই আবেদনের শেষ তারিখ বাড়িয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, শিক্ষকদের এই অসহযোগিতা আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *