ছ’মাস বয়সে এক পা বাদ, তবুও থেমে নেই স্বপ্ন! রোজ একা হেঁটে স্কুলে যাওয়া ৭ বছরের রাগিনীর লড়াই দেখলে চোখে জল আসবেই!

বয়স মাত্র সাত বছর। কিন্তু এই ছোট্ট বয়সেই জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ছ’মাস বয়সের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হারাতে হয়েছে একটি পা। তা সত্ত্বেও ভাগ্যের কাছে হার না মেনে প্রতিদিন অদম্য জেদে এক পায়ে ভর দিয়েই স্কুলের পথে পা বাড়ায় সে। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার বাসিন্দা ছোট্ট রাগিনীর এই অসামান্য লড়াই ও পড়াশোনার প্রতি এমন অনুরাগ এখন গোটা দেশবাসীর নজর কেড়েছে।

অভাব ও দুর্ঘটনার মর্মান্তিক অতীত:
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ছ’মাস বয়সে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনার শিকার হয় রাগিনী। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটির পা বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অস্ত্রোপচার করে তার একটি পা বাদ দিতে হয়। ছোট্ট মেয়েটির মা ববিতা জানান, সেদিনের সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি আজও তাঁদের তাড়া করে বেড়ায়।

স্কুল যাওয়ার অদম্য জেদ:
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাগিনী লক্ষ করে, তার সমবয়সি বাকি শিশুরা পিঠে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে রোজ হাসিমুখে স্কুল যাচ্ছে। তখনই সে বাবা-মায়ের কাছে বায়না ধরে, সেও পড়াশোনা করতে চায়, স্কুলেও যেতে চায়। পরিবারের আর্থিক অনটন ও চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মেয়ের জেদের কাছে হার মানে বাবা-মায়ের স্বপ্ন। চরম দারিদ্র্যের কারণে গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা না থাকায়, প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পথ এক পায়ে ভর দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করে ছোট্ট রাগিনী। পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে খানিকটা জিরিয়ে নিয়ে ফের স্কুলের পথ ধরে সে।

সাহায্যের হাত বাড়াল প্রশাসন ও জন প্রতিনিধি:
দিনমজুর বাবার পক্ষে মেয়ের জন্য কোনো কৃত্রিম অঙ্গ বা যাতায়াতের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না। নিরুপায় হয়ে জেলাশাসকের (DM) কাছে একটি চিঠি লিখে সাহায্য প্রার্থনা করেছিল ছোট্ট রাগিনী। সে লিখেছিল, “আমাকে একটি ট্রাইসাইকেল দেবেন? আমিও সবার মতো স্কুলে যেতে চাই।”

হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপরই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং। তিনি নিজে রাগিনীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং একটি হুইলচেয়ার তুলে দেন। শুধু তাই নয়, ছোট্ট রাগিনীকে ভবিষ্যতে একটি প্রস্থেটিক বা কৃত্রিম পা (Prosthetic Leg) লাগিয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাগিনীর এই এগিয়ে চলা এখন হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *