ডুবে যাচ্ছে বারাণসী, জলের তোড়ে বাড়ছে বিপদ! পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতেই কী জরুরি নির্দেশ দিলেন মোদী?

একদিকে যখন প্রতিবেশী দেশ নেপালে চলছে ভয়াবহ জলপ্লাবন, ঠিক তেমনই অন্যদিকে জলের তোড়ে ভাসছে ভারতের প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র বারাণসীও (Varanasi Flood)। লাগাতার বৃষ্টিপাত এবং হু হু করে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বারাণসীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যার জেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শহরবাসী। এমন এক সংকটজনক পরিস্থিতিতে আজ, বৃহস্পতিবার সরাসরি বারাণসীর জেলাশাসক সত্যেন্দ্র কুমার (DM Satyendra Kumar) এবং মেয়র অশোক তিওয়ারির (Mayor Ashok Tiwari) সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিজে গোটা পরিস্থিতির বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ পৌঁছানোর নির্দেশ:
বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষদের কাছে যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং ত্রাণের সমস্ত জিনিস পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনকে একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ত্রাণ শিবিরগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের জন্য যাবতীয় সুযোগ-সুবিধে অবিলম্বে নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন মোদী। এমনকি, এই বিপর্যয়ের মুখে যোগী প্রশাসন যেন ২৪ ঘণ্টা প্রতিটি বিপদসংকুল অঞ্চল ও ত্রাণকার্যের ওপর কড়া নজর রাখে, সেই নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বিপদসীমার কাছাকাছি গঙ্গার জল:
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বারাণসীতে গঙ্গার সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক জলস্তর যেখানে ৭০.২৬ মিটার, সেখানে এই মুহূর্তে নদীর জল বইছে ৭০.২৮ মিটার উচ্চতায়। অথচ গঙ্গার বিপদসীমা হলো ৭১.২৬ মিটার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতি ঘণ্টায় ২ সেন্টিমিটার করে ক্রমাগত বাড়ছে জলের স্তর। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে নদী বিপদসীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রশাসনের তৎপরতা ও নৌকা চলাচল নিয়ন্ত্রণ:
এর আগেই বারাণসীর পুলিশ কমিশনার মোহিত আগরওয়াল এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে বন্যা কবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। এনডিআরএফ (NDRF)-এর নৌকোয় চেপে তাঁরা সালারপুর, সরাইয়া, কোনিয়া এবং পুল কোহনা-র মতো জলমগ্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত অসি ঘাট থেকে কেশব ঘাট পর্যন্ত নৌকা চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে এবং নদীতে যাতায়াতের ওপর জারি করা হয়েছে কঠোর নজরদারি।

অবিরাম বৃষ্টির জেরে বারাণসীতে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হলেও, খোদ প্রধানমন্ত্রী তথা স্থানীয় সাংসদের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ এখন আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *