জ্বর সারলেও কি মাথা কাজ করছে না? ভাইরাল ইনফেকশনের পর কেন এই অদ্ভুত সমস্যা হয় জানেন?

ভাইরাল ইনফেকশন বা জ্বর সেরে যাওয়ার অর্থই সবসময় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা নয়। জ্বর এবং অন্যান্য তীব্র উপসর্গ কমে যাওয়ার পরেও অনেকে মানসিকভাবে ঝিমিয়ে থাকা, মনোযোগের অভাব কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্রেন ফগ’ (Brain Fog)। এর জেরে কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে সমস্যা, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা এবং মানসিক ক্লান্তি জেঁকে বসে।

নতুন দিল্লির পিএসআরআই ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস-এর নিউরোলজিস্ট এবং চেয়ারম্যান ড. নিতিন কুমার শেঠি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভাইরাল ইনফেকশন থেকে সেরে ওঠার সময় ব্রেন ফগ দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং সময়ের সঙ্গে তা ধীরে ধীরে ঠিকও হয়ে যায়। তবে উপসর্গগুলি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা আরও খারাপ হতে থাকে, তবে সেগুলোকে স্বাভাবিক সুস্থতার প্রক্রিয়া ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।

ব্রেন ফগ কেন হয়?

সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পর কিছুদিন পর্যন্ত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় থাকতে পারে। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ঘুম, জলস্বল্পতা, কম খাওয়া, মানসিক চাপ এবং শারীরিক দুর্বলতাও মনোযোগ ও শক্তির মাত্রাকে প্রভাবিত করে। জ্বর বা তীব্র উপসর্গ চলে যাওয়ার পর হয়তো শারীরিক দিক থেকে কিছুটা ভালো লাগতে পারে, কিন্তু শরীরের সার্বিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে। ইনফেকশনের ধরন, অসুস্থতার তীব্রতা এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ব্রেন ফগের স্থায়িত্বকাল একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

কখন নিজে থেকে সতর্ক হবেন?

হালকা উপসর্গ যা ধীরে ধীরে সেরে উঠছে, সেগুলিতে খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক পরিমাণে জল পান, সুষম খাবার খাওয়া এবং ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজে ফেরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। শরীর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই নিজেকে কোনো কঠিন কাজ বা ভারী এক্সারসাইজে জড়িয়ে না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে ব্রেন ফগ যদি বেশ কিছুদিন ধরে চলতে থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায় কিংবা এর সঙ্গে যদি তীব্র ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুমের সমস্যা বা মেজাজ পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যেসব লক্ষণ দেখলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি:

হঠাৎ করে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।

শরীরের একপাশে দুর্বলতা বা অবশ ভাব অনুভব করা।

খিঁচুনি বা অত্যন্ত তীব্র ও অস্বাভাবিক মাথা ব্যথা।

চেতনা হারিয়ে ফেলা বা হাঁটার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া।

আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন বা মানসিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি।

ব্রেন ফগ কোনো রোগ নয়, একটি লক্ষণ মাত্র

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ব্রেন ফগ নিজেই কোনো একক রোগ বা ডায়াগনোসিস নয়, বরং এটি অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার উপসর্গ মাত্র। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ঘুমের ব্যাধি কিংবা উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার মতো কারণেও এমনটা হতে পারে। তাই কেবল সম্প্রতি ভাইরাল ইনফেকশন হয়েছিল বলেই নিজের সমস্যাকে নিজে থেকে নির্ণয় না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *