মুখের স্বাস্থ্যই বলে দেবে আপনি কতটা সুস্থ! এই ৫টি সাধারণ ভুলেই কি তিলে তিলে নষ্ট হচ্ছে আপনার দাঁত?

মুখের স্বাস্থ্য মানে কেবল ঝকঝকে ও সুন্দর এক প্রস্থ দাঁত নয়, এটি আসলে আমাদের সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার এক নিখাদ আয়না। চিকিৎসকদের মতে, মুখের ভেতরের অপরিচ্ছন্নতা কেবল দুর্গন্ধ বা দাঁতের ক্ষয়ের কারণই নয়, এর হাত ধরে দানা বাঁধতে পারে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যাও। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের রোজকার জীবনযাত্রার বেশ কিছু ছোট ছোট ভুল অজান্তেই দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে, যা আমরা অনেক সময়ই বুঝতে পারি না।
অর্থোডন্টিস্ট ডঃ জৈনিল পারেখের মতে, দৈনন্দিন অভ্যাসের গোলমালেই তৈরি হয় মুখের নানান জটিল রোগ। কোন কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার মুখের স্বাস্থ্য? একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
মানসিক চাপ ও ব্রুকসিজম (Bruxism): অতিরিক্ত মানসিক চাপ ডেকে আনে নানা জটিলতা। স্ট্রেস বাড়লে অনেকেই অজান্তেই দিনে বা ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত চেপে ঘষেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্রুকসিজম’ বলা হয়। এর ফলে চোয়ালে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং ধীরে ধীরে দাঁত ক্ষয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ব্যস্ততার জেরে দাঁতের যত্ন নেওয়ার রুটিনেও ব্যাঘাত ঘটে।
ভুল খাদ্যাভ্যাস ও চিনির প্রভাব: আপনি যা খাচ্ছেন, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে দাঁত ও মাড়ির ওপর। মিষ্টি খাবার ও পানীয় মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপন্ন অ্যাসিড ধীরে ধীরে দাঁতের বাইরের শক্ত স্তর বা এনামেলকে দুর্বল করে দেয়।
ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা: মুখের ভেতর স্বাস্থ্যকর রাখতে লালার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মুখের ভেতরের অ্যাসিডের প্রভাব কমিয়ে খাবার পরিষ্কার রাখে। শরীরে জলের পরিমাণ কমলে লালার উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের ক্ষয় ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।
ঘুমের ব্যাঘাত: পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা মুখ খুলে ঘুমানোর অভ্যাসের কারণে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। এছাড়া ঘুমের মধ্যে মানসিক চাপের কারণে দাঁত কিড়মিড় করার প্রবণতাও বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রতিকারের উপায় ও ডেন্টিস্টের পরামর্শ:
মুখের সমস্যা রাতারাতি তৈরি হয় না, বরং মিষ্টি পানীয় খাওয়ার অভ্যাস, ফ্লস না করা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার মতো ছোট ছোট ভুলের ফল এটি। তাই নিয়মিত দু’বেলা দাঁত মাজা, ফ্লস করা, শরীর হাইড্রেটেড রাখা এবং চিনি বা অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়া কমানো একান্ত জরুরি।
এর পাশাপাশি যদি দেখেন মুখ বারবার শুকিয়ে যাচ্ছে, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ছে, চোয়ালে ব্যথা হচ্ছে কিংবা দাঁতে অতিরিক্ত শিরশিরানি (sensitivity) অনুভূত হচ্ছে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।