“শুধু সুদেই পাবেন মাসে ২০,৫০০ টাকা”-জেনেনিন পোস্ট অফিসের SCSS স্কিম সম্পর্কে

অনেকেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে কষ্টার্জিত পুঁজি সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখে সেখান থেকে নিয়মিত আয়ের সংস্থান করা। আপনার মাথাতেও যদি ঠিক এই একই উদ্দেশ্য থাকে, তবে চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে পারেন পোস্ট অফিসের স্মল সেভিংস স্কিমগুলির ওপর। বিশেষ করে অবসর জীবন বা বার্ধক্যে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম বা এসসিএসএস (SCSS)। সঠিক নিয়মে এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে একেবারে নিশ্চিত আয় হিসেবে পেতে পারেন ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কেন এই স্কিম সবচেয়ে নিরাপদ?

একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। পোস্ট অফিসের এই স্কিমগুলির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে বিনিয়োগ করা প্রতিটি টাকার ১০০ শতাংশ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয় কেন্দ্র সরকার। ফলে বাজারের ওঠানামার কোনো প্রভাব এখানে পড়ে না। সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় এখানে সুদের হার যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

বিনিয়োগের নিয়ম ও সুদের হার

সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে অ্যাকাউন্ট খোলা অত্যন্ত সহজ। যে কেউ চাইলে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এতে বিনিয়োগ করতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই স্কিমে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে দুর্দান্ত সুদ পাওয়া যায়, যা অনেক বড় বড় ব্যাংকের সুদের হারের থেকেও বেশ খানিকটা বেশি। স্কিমটির ম্যাচুরিটি বা মেয়াদকাল ৫ বছর। তবে বিশেষ প্রয়োজনে মেয়াদের আগেও টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব, যদিও সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সামান্য পেনাল্টি কাটা হতে পারে। এছাড়া সাধারণ রিটার্নের পাশাপাশি আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়।

কীভাবে পাবেন মাসে ২০,৫০০ টাকা?

এই স্কিমে একজন ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বর্তমানে এসসিএসএস-এ একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। তবে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে যৌথভাবে অ্যাকাউন্ট খুললে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা জমা রাখা সম্ভব।

স্বামী-স্ত্রী মিলে এই স্কিমে একসঙ্গে ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ হারে মোট ২৪৬,০০০ টাকা সুদ অর্জিত হবে। এই হিসেবে প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে ৬১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ, সহজ অঙ্কে হিসাব করলে প্রতি মাসের হিসেবে আপনার পকেটে আসবে পুরো ২০,৫০০ টাকা। টানা ৫ বছর ধরে এই নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিয়মিত পেতেই থাকবেন। আর মেয়াদের ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আপনার জমাকৃত সম্পূর্ণ মূলধন অর্থাৎ ৩০ লক্ষ টাকাও ফেরত পেয়ে যাবেন নিরাপদে। তাই বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্ত নিশ্চিত করতে আজই এই স্কিমের পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *