ফুড সেফটি উইকে রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি! পচা সস থেকে বাসি মাংস—প্রশাসনের হানায় উদ্ধার পাহাড়প্রমাণ ভেজাল খাবার

১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ফুড সেফটি উইক’ (Food Safety Week)। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে এবার রাজ্যজুড়ে একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসর্ট ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বনগাঁ থেকে লাটাগুড়ি, ভদ্রেশ্বর থেকে রাজারহাট—সর্বত্রই এই ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার হয়েছে পাহাড়প্রমাণ ভেজাল ও ব্যবহারের অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী।
বনগাঁ ও বাগদায় রমরমিয়ে ভেজাল কারবার:
খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও জেলা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্র্যাঞ্চের যৌথ হানায় বনগাঁর কমলাপুরে একটি সস কারখানায় ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেখানে সস তৈরিতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছিল পচা কুমড়ো! এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে পুলিশ নকল সস প্রস্তুতকারী বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি বাগদার পুরাতন ও নতুন বাজারে মিষ্টি, বিরিয়ানি এবং ফাস্টফুডের দোকানগুলিতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদউত্তীর্ণ ও বাসি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
ডুয়ার্স থেকে হুগলি—রিসর্ট ও বেকারিতেও কোপ:
বুধবার গরুমারা সংলগ্ন পর্যটন কেন্দ্র লাটাগুড়ির একাধিক বিখ্যাত রিসর্টে মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে হানা দেয় প্রশাসন। রান্নাঘর ও ফুড স্টোরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু রিসর্ট থেকে মেয়াদউত্তীর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার উদ্ধার করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় লাটাগুড়ির তিনটি রিসর্টকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হুগলির ভদ্রেশ্বরে উপযুক্ত খাদ্য সুরক্ষা বিধি না মানায় একটি বেকারি সম্পূর্ণ সিল করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজারহাট ও বিধাননগরে মিলল পচা মাংস:
বিধাননগর ও রাজারহাট অঞ্চলেও জারি রয়েছে বিশেষ নজরদারি। রাজারহাট চৌমাথার বিভিন্ন খাবারের দোকানে আচমকা অভিযানে একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে পচা ও গন্ধযুক্ত মাংস। এছাড়া বিধাননগরের একটি কেক-পেস্ট্রির দোকানেও তল্লাশি চালিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।
পশ্চিম বর্ধমানেও কড়া পদক্ষেপ:
পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড় ও অণ্ডাল অঞ্চলেও একাধিক দোকানে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। কাঁকসার বিডিও এবং কাঁকসা থানার আইসি-সহ পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি দোকানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের কঠোর অভিযান আগামী দিনেও রাজ্যজুড়ে অব্যাহত থাকবে।