সমতলের আইন পাহাড়ে কেন? পুজো ও শীতের মরশুমের আগেই কালিম্পংয়ে হোটেল বন্ধের চরম হুঁশিয়ারি!

জোর মরশুমের ঠিক আগে পর্যটন শিল্পে বড়সড় সংকটের কালো মেঘ। পাহাড়ের হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে কালিম্পংয়ে। অগ্নি সুরক্ষা আইন অমান্য করার অভিযোগে ইতিমধ্যে শহরের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি হোটেল ও রেস্তরাঁকে নোটিশ ধরিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে আসন্ন পর্যটন মরশুমের আগেই সমস্ত হোটেল স্বেচ্ছায় বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কালিম্পং’ (HORAK)।
সমতলের নিয়ম পাহাড়ে কতটা বাস্তবসম্মত? হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীদের মূল অভিযোগ, সমতলের জন্য তৈরি ‘পশ্চিমবঙ্গ অগ্নিনির্বাপক আইন ১৯৫০’ অবিকল পাহাড়ি এলাকায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সিসমিক জোনের কথা মাথায় রেখে ৮ থেকে ১০ হাজার লিটারের ভূগর্ভস্থ বা ওভারহেড জলাধার তৈরি করা চরম বিপজ্জনক ও অবাস্তব। টিনের চালের বহুতলের ছাদে হাজার হাজার লিটার জলের ভার বহন করা কিংবা মাটির নিচে বিশাল জলাধার তৈরির পর্যাপ্ত জায়গাও এখানে নেই। স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার অ্যালার্ম এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র এই অবাস্তব নিয়মগুলির জন্য লাইসেন্স আটকে রেখে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা: সামনেই দুর্গাপুজো, কালিপুজো এবং শীতের মরশুম। ইতিমধ্যে কালিম্পংয়ের অধিকাংশ হোটেলের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সমস্ত বুকিং সম্পূর্ণ হয়ে আছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে হোটেল সিল বা আইনি ব্যবস্থা নিলে পর্যটকরা যেমন মারাত্মক হয়রানির মুখে পড়বেন, তেমনই পাহাড়ের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ পর্যটন শিল্প ধসে পড়বে।
সমস্যার সমাধানে হোটেল সংগঠনের প্রতিনিধিরা কালিম্পংয়ের বিধায়ক, জেলাশাসক এবং জিটিএ (GTA)-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য একটি পৃথক ও বাস্তবসম্মত অগ্নিসুরক্ষা নীতি তৈরির জন্য সরকারের কাছে বিশেষ সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পুজো ও পর্যটনের ভরা বাজারে এই সংকট কীভাবে কাটায় প্রশাসন, এখন সেটাই দেখার।