বিরাট আবিষ্কার! ৫০ মিলির ঝামেলা শেষ, সামান্য ক ফোঁটা দুধেই ধরা পড়বে সমস্ত ভেজাল ও কেমিক্যাল

প্রতিদিন সকালে যে দুধ খাচ্ছেন, তা কি আদৌ বিশুদ্ধ নাকি জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন ভেজালকারবারিরা? এই আশঙ্কার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। উত্তরপ্রদেশের বরেলির মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে রহেলখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Mahatma Jyotiba Phule Rohilkhand University) গবেষকরা এমন একটি দুর্দান্ত ও পোর্টেবল যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা দেখে চমকে উঠেছে টেক দুনিয়া।
কী এই নতুন ডিভাইস? বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. অজয় যাদব একটি অভিনব পোর্টেবল ‘মিল্ক টেস্টার’ বা সেন্সর তৈরি করেছেন। সাধারণত ল্যাবরেটরিতে দুধের গুণগত মান যাচাই করার জন্য অন্তত ৫০ মিলি বা তার বেশি দুধের নমুনার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই নতুন পোর্টেবল ডিভাইসের মাধ্যমে মাত্র ৪ মিলি লিটার দুধের নমুনা দিয়েই মুহূর্তে আসল-নকল পরীক্ষা করা সম্ভব।
কীভাবে কাজ করে এই সেন্সর?
-
উপাদান: নিকেল এবং প্লাস্টিকের রড দিয়ে এই বিশেষ সেন্সরটি তৈরি করা হয়েছে।
-
ভেজাল শনাক্তকরণ: গরুর খাঁটি দুধ, প্যাকেটবন্দী দুধ এবং মহিষের দুধের ভোল্টেজ রিডিংয়ে তফাৎ ধরে ফেলে এই যন্ত্র। এমনকি দুধে হাইড্রোজেন পারক্সাইড, ফর্মালডিহাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেটের মতো বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও প্রিজভেটিভ মেশানো রয়েছে কি না, তাও সহজেই ধরে ফেলতে পারে এটি।
-
দাম কত হবে? গবেষকদের দাবি, এই ডিভাইসটির আনুমানিক বাজার মূল্য মাত্র ১০০০ থেকে ১২00 টাকার মধ্যে হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি বারবার ব্যবহার করা যায়, ফলে বারবার কোনো বাড়তি খরচ করতে হবে না।
বাজার আসার অপেক্ষা: বর্তমানে এই সেন্সরটি বিভিন্ন তাপমাত্রায় চূড়ান্ত পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সমস্ত ট্রায়াল সফল হলেই খুব শীঘ্রই এটি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। কম খরচে এবং ঘরের মধ্যে বসেই দুধের বিশুদ্ধতা যাচাই করার এই দুর্দান্ত আবিষ্কার ভবিষ্যতে প্রতিটি পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।