অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কি চুল ঝরিয়ে দিচ্ছে? ডার্মাটোলজিস্টের এই সতর্কতা না জানলে বড় বিপদে পড়বেন!

আজকের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও ব্যস্ত জীবনে দুশ্চিন্তা বা এঞ্জাইটি (Anxiety) যেন এক নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই মানসিক চাপকে অনেকেই সাধারণ ব্যাপার ভেবে এড়িয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। দীর্ঘমেয়াদি বা তীব্র এঞ্জাইটি শুধু মানসিক স্বাস্থ্যকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে আপনার শরীরেও। বিশেষ করে, অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে— অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে কি সত্যিই চুল পড়া শুরু হতে পারে? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।

চুল পড়ার সঙ্গে এঞ্জাইটির যোগসূত্র কী? দিল্লির শ্রী বালাজি एक्शन মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডা. বিজয় সিংঘল জানান, যখন কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মানসিক চাপ বা এঞ্জাইটির মধ্যে থাকেন, তখন শরীর একটানা ‘স্ট্রেস রেসপন্স’-এর পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য হয়। এর ফলে চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ সাইকেল ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত চাপের কারণে চুলের গোড়া সময়ের আগেই ‘রেস্টিং ফেজ’-এ চলে যায়। আর এর ঠিক কিছুদিন বা কয়েকমাস পরেই শুরু হয় মাত্রাতিরিক্ত চুল ঝরার সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’।

বোঝার উপায় ও অন্যান্য কারণ: সাধারণত স্নান করার সময়, চুলে চিরুনি চালালে বা হাত দিলেই গোছা গোছা চুল উঠতে দেখলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। বিশেষ ব্যাপার হলো, চুল পড়ার এই সমস্যাটি ঠিক মানসিক চাপের সময় বা তার ঠিক পরেই শুরু হয় না, বরং কিছুটা সময় পর প্রকাশ পায়। যার ফলে অনেকে চাপ এবং চুল পড়ার আসল সংযোগটি বুঝতে পারেন না।

তবে মনে রাখা দরকার যে, চুল পড়ার একমাত্র কারণই কিন্তু এঞ্জাইটি নয়। শরীরে আয়রন বা ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, পুষ্টির অভাব, অপর্যাপ্ত ঘুম কিংবা মাথার স্ক্যাল্পে কোনো সংক্রমণ থাকলেও চুল ঝরতে পারে।

প্রতিকারের উপায়: চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি চুল পড়ার কারণ মানসিক চাপ বা এঞ্জাইটি হয়, তবে কেবল বাহ্যিক হেয়ার কেয়ার ট্রিটমেন্ট করলেই চলবে না, বরং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টেও জোর দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন এবং সঠিক জীবনযাপন এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে যদি চুল পড়ার মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় অথবা স্ক্যাল্পে চুলকানি ও লালচে ভাব দেখা দেয়, তবে নিজে থেকে কোনো টোটকা বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *