‘আন্ডার প্রসেস’ বা ভেরিফিকেশনের ঝঞ্ঝাট! যোগ্য হয়েও যাঁরা টাকা পাননি, তাঁরা সেপ্টেম্বর মাসে কবে টাকা পাবেন?

সেপ্টেম্বর মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) নিয়ে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজ্যের মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা ইতিমধ্যে অগাস্ট মাসে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা হাতে পেলেও, এখনও বহু যোগ্য উপভোক্তা টাকা পাননি বলে জোরালো অভিযোগ উঠছে। পোর্টালে কারও স্ট্যাটাস ‘আন্ডার প্রসেস’ তো কারও ক্ষেত্রে ‘ফর ফার্দার ভেরিফিকেশন’ দেখাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মহিলারা যথেষ্ট আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সেপ্টেম্বরে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী জানা যাচ্ছে?
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যাঁদের আবেদন বিভিন্ন কারণে আটকে রয়েছে বা যাঁদের স্ট্যাটাস এখনও ঝুলে রয়েছে, সেই সমস্ত অভিযোগ এবং বিষয়গুলি ৩১ অগাস্টের পর থেকে খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট নিয়মের বেড়াজালে যাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে আবেদন করেছেন, তাঁদের সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাশাপাশি সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ায় যাঁরা ইতিমধ্যে চূড়ান্তভাবে যোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই নিয়মিতভাবে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে যাবে। ফলস্বরূপ, সেপ্টেম্বরের এই নির্দিষ্ট সপ্তাহের মধ্যেই বকেয়া ও নতুন যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
অযোগ্যদের নাম নিয়ে কড়া পদক্ষেপ ও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত
অন্যদিকে, প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অগাস্ট মাসের কিস্তি পেয়ে গেলেও প্রক্রিয়াটিকে ঘিরে কিছু বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়েছে। অভিযোগ উঠছে যে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্য না হয়েও অনেকে এই প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে ফেলেছেন। সেই সমস্ত ভুয়া বা সন্দেহজনক আবেদন খতিয়ে দেখতে পোর্টালে জমা পড়া সমস্ত অভিযোগ ৩১ অগাস্টের পর পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। যাচাইয়ের পর অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রকৃত উপভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
কোথায় যোগাযোগ করবেন সাধারণ মানুষ?
যাঁরা সমস্ত শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কোনো অর্থ পাননি বা যাঁদের আবেদনে কারিগরি কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাঁদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (BDO) অথবা নির্দিষ্ট পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সরকারি পোর্টালে অনলাইনে ‘গ্রিভান্স রিড্রেসাল’ (Grievance Redressal)-এর মাধ্যমেও নিজেদের অভিযোগ বা সমস্যার কথা দ্রুত রেজিস্টার করতে পারবেন উপভোক্তারা।