ফোন চুরি গেলেই IMEI বদলানোর কথা ভাবছেন? ৩ বছরের জেল ও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিরাট কড়া বার্তা কেন্দ্রের!

মোবাইল ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর বদলানো বা তাতে কারচুপি করার বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর বা DoT। সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন বা বিকৃত করলে তাঁকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। সরকারের মতে, এই ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যের অপব্যবহার দেশের সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় টেলিকম নেটওয়ার্কের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনি কড়াকড়ি ও জামিন অযোগ্য অপরাধ
কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোবাইলের আন্তর্জাতিক মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি বা আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরিবর্তন করা, বিকৃত করা কিংবা অননুমোদিত টেলিযোগাযোগ আইডেন্টিফায়ারযুক্ত কোনো ডিভাইস ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। ২০২৩ সালের নতুন টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী এটি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ওই আইনের ৪২(৩)(সি) ধারায় টেলিকমিউনিকেশন আইডেন্টিফায়ারের সঙ্গে যেকোনো ধরনের কারচুপি কঠোরভাবে ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন সিম কার্ড বা টেলিকমিউনিকেশন আইডেন্টিফায়ার সংগ্রহ করাও এই নতুন আইনের আওতায় কঠোর অপরাধ। DoT জানিয়েছে, এই সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলি সম্পূর্ণভাবে জামিন অযোগ্য ধারার অধীনে বিচার করা হবে। এর ফলে পুলিশ এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা ও নাগরিকদের সতর্কবার্তা
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কেউ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ধরনের সাইবার অপরাধে সাহায্য করেন কিংবা অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহ দেন, তবে মূল অভিযুক্তের মতোই তাঁদের বিরুদ্ধেও সমপরিমাণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তাঁরা বাজারে প্রচলিত পরিবর্তনযোগ্য বা বিকৃত আইএমইআই নম্বরযুক্ত কোনো মডেম, মডিউল, সিম বক্স কিংবা অন্য কোনো বেআইনি টেলিফোন যোগাযোগের যন্ত্র ব্যবহার না করেন, না কেনেন এবং নিজেরা তৈরিও না করেন।
নিজের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে DoT। আপনার নামে থাকা সেই সিম কার্ড ব্যবহার করে যদি কেউ কোনো ধরনের সাইবার প্রতারণা বা অন্য কোনো বেআইনি কাজ করেন, তবে তার জেরে মূল গ্রাহককেও সরাসরি আইনি দায়ের মুখে পড়তে হতে পারে। মোবাইলের সঠিক আইএমইআই এবং সংযোগ সংক্রান্ত তথ্য ঘরে বসে যাচাই করার জন্য নাগরিকদের কেন্দ্রের নিজস্ব ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।