২৫ কোটির সোনা নিয়ে সীমান্ত পার! BSF-র জালে বাংলাদেশি মহিলা, উদ্ধার যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে

নাদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের এক বিরাট বড়সড় সোনা পাচারের চেষ্টা সফলভাবে বানচাল করল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বানীপুর সীমান্তবর্তী ফুলবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের সতর্ক জওয়ানরা। দীর্ঘক্ষণ নিখুঁত নজরদারির পর এক মহিলার সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তাকে আটক করা হয়। এরপর ওই মহিলার ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় জওয়ানদের। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় মোট ১৫ কেজি ৬০৭ গ্রাম ওজনের বিপুল পরিমাণ সোনা। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৫ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা, যা সীমান্ত এলাকায় অন্যতম বড় সোনার চালান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ধৃত মহিলাকে কেমিকৌশলে জেরা করছেন বিএসএফ আধিকারিকরা। এই আন্তর্জাতিক সোনা পাচারচক্রের সঙ্গে আর ঠিক কারা জড়িত, সোনাগুলি ঠিক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং দেশের ঠিক কোন প্রান্তে তা পাচারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল—তা খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সীমান্তে চোরাচালানের এই রমরমা রুখতে বর্তমানে নজরদারি বহুলাংশে জোরদার করেছে বিএসএফ। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় আন্তঃদেশীয় কোনো বড় পাচারচক্র বা র্যাকেটের সন্ধান মিলতে পারে বলেই জোরালো ধারণা গোয়েন্দাদের। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ধৃতকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শান্তিপুরে আটক বাংলাদেশি যুবক, শুরু ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর প্রক্রিয়াসীমান্তবর্তী এলাকায় সোনার চোরাচালানের পাশাপাশি আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে নদিয়া থেকেই। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে শান্তিপুরের গোবিন্দপুর এলাকা থেকে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় এক যুবককে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ তার পরিচয়পত্র ও সঠিক নথিপত্র দেখতে চায়। কিন্তু পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর থেকেই ওই যুবকের কথাবার্তায় চরম অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যার জেরে তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী দফার ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক নিজেকে বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানার বড়দা হিন্দি ফকিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে স্বীকার করে। ধৃতের নাম রাজিব ফকির এবং তার বয়স ৩৩ বছর বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০২০ সালে মহামারীর ও লকডাউনের কঠিন সময়ে বেআইনিভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল ওই যুবক। প্রথমে সে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকায় আশ্রয় নেয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে পালিয়ে শান্তিপুরে এসে লুকিয়ে বসবাস শুরু করে।বর্তমানে দেশের প্রচলিত আইন মেনে ওই অনুপ্রবেশকারী যুবককে অবিলম্বে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, সমস্ত আইনি বিধি মেনে তাকে নিজ দেশ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই দুই বড় ঘটনায় সীমান্তবর্তী শান্তিপুর ও বানীপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।