কাকভোরে শো-রুমে ভয়াবহ আগুন! উপরে স্কুল আর পরিবার থাকায় কোন বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচল পানাগড়?

কাকভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল স্কুটারের শো-রুম। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে একটি তিনতলা ভবনকে, যার গ্রাউন্ড ফ্লোরে ছিল স্কুটারের শো-রুম, ফার্স্ট ফ্লোরে একটি কিডস স্কুল এবং সেকণ্ড ফ্লোরে বসবাস করত একটি পরিবার। মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ের দার্জিলিং মোড়ের কাছে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিমেষে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো চত্বর ঘন কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।

এদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েই প্রথম ওই আবাসন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং দ্রুত খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীতে। ততক্ষণে নিচতলার শো-রুমে থাকা সমস্ত নতুন স্কুটার আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘটনার সময় কিডস স্কুলটি বন্ধ থাকায় এক বিরাট ও ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে, নতুবা বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে যেতে পারত।

খবর পেয়ে পানাগড় দমকল কেন্দ্র থেকে দুটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পানাগড় দমকল বিভাগের অফিসার ইনচার্জ বিশ্বজিৎ মুর্মু জানান, “কাকভোরে এদিন ভয়াবহ আগুন লাগে। খবর পেয়েই আমরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে শর্ট-সার্কিট থেকেই এই আগুন লেগেছে। স্কুটারের শো-রুমে প্রথমে আগুন লাগে এবং পরে তা পুরো বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে দমকলের তৎপরতায় আগুন এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”

প্রাথমিক তদন্তে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ওই স্কুটারের শো-রুম তথা সমগ্র ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিল না। ঘটনার পরই কাঁকসা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। তবে এত বড় একটি বিপদের পর আগামী দিনে স্কুল খোলা বা স্কুটার শো-রুমের মতো দাহ্য সামগ্রীর প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং বিল্ডিং মালিকের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *