রক্ত পাচার থেকে ‘কাটমানি’ চক্র! কড়া ব্যবস্থার পর কলকাতার এই ৩ ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর থেকে উঠল নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গের শহর থেকে জেলা—একাধিক জায়গায় ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বড়সড় পদক্ষেপ করেছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রক্ত ও প্লাজমা পাচারসহ নানা বেনিয়মের অভিযোগে ১২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ টানাপড়েন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর অবশেষে কলকাতার ৩টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হওয়া এই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে রয়েছে হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক, আলিপুরের কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের নাম।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর একাধিক কঠোর শর্ত মেনে মুচলেকা জমা দেয়। সরকারের বেঁধে দেওয়া সমস্ত শর্ত পূরণের পরই তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি নিষিদ্ধ ব্লাড ব্যাঙ্কের মধ্যে মোট ৫টির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবে এখনও বাকি ৭টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর কড়াকড়ি বহাল রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও এই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির কার্যকারিতার ওপর কড়া নজরদারি রাখবে স্বাস্থ্য দফতর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলি এখন থেকে আর যথেচ্ছভাবে রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না। রক্ত সংগ্রহের একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া রক্ত ও প্লাজমা ভিন রাজ্যে পাঠানো যাবে না।
উল্লেখ্য, রাজ্যের ব্লাড ব্যাংক সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পায় স্বাস্থ্য ভবন। তদন্তে প্রকাশ পায় যে, এই রক্ত কেলেঙ্কারির পেছনেও বড় অঙ্কের ‘কাটমানি’র খেলা চলছে। বিভিন্ন বর্ষের মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ডাক্তার সাজিয়ে ভুয়া রক্তদান শিবির পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এসএসকেএম (SSKM), এনআরএস (NRS) এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের শতাধিক পড়ুয়া স্বাস্থ্য ভবনের স্ক্যানারে রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রতিটি ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ টাকা থেকে বড় অংশ কাটমানি হিসেবে পকেটে ভরতেন ছাত্র নেতারা। ছাত্ররা পেতেন নামমাত্র টাকা, আর বাকি অর্থ যেত প্রভাবশালী ছাত্র নেতাদের হাতে। এই পুরো চক্রে তিন মেডিক্যাল কলেজের তিন ছাত্র নেতার নামও সনাক্ত করেছে তদন্তকারী দল।