জিডিপি ৭.৮ শতাংশ বাড়তেই রাহুলের ওপর চটলেন মোদী! ভিডিও বার্তায় কোন অস্ত্র শানালেন প্রধানমন্ত্রী?

চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে নিজেদের আর্থিক সাফল্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে সরকারি পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ওই ভিডিও বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নাম না করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ বা ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাহুলের সাম্প্রতিক ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকেই মূলত এই কড়া ভাষায় নিশানা করেছেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার পরেও ভারত অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অথচ দেশের একটি অংশ হতাশায় ডুবে থেকে চারদিকে কেবল ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদীর স্পষ্ট বক্তব্য, সমস্ত বাধা এবং চ্যালেঞ্জ ভেঙে দেশ ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার অর্জন করেছে এবং এই গতির ধারা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে।
সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে একটি নতুন ছাত্রসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছেন। ওই কর্মসূচি থেকে মূলত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, শিক্ষাব্যবস্থার নানা ত্রুটি এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশের মতে, রাহুলের সেই ‘গুঞ্জ’ শব্দটিকেই রাজনৈতিক কৌশলে ধার করে মোদী ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ আক্রমণ শানিয়েছেন। অর্থাৎ রাহুল ছাত্রদের আসল সমস্যা তুলে ধরার দাবি করলেও প্রধানমন্ত্রী তাকে নিছক মিথ্যা ও হতাশা ছড়ানোর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। যদিও বক্তৃতায় সরাসরি রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস দলের নাম উচ্চারণ করেননি প্রধানমন্ত্রী, তবে শব্দের নিখুঁত প্রয়োগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাঁর আক্রমণের আসল লক্ষ্য পরিষ্কার করে দিয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে আগের আর্থিক বছরের ঠিক একই সময়ে বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ এবং নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০.৩ শতাংশ। বিরোধীদের যাবতীয় সমালোচনার উপযুক্ত জবাব হিসেবে এই পরিসংখ্যানকে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারের অর্থনৈতিক নীতি সঠিক এবং ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মিলিত পরিশ্রমই দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
জিডিপি বৃদ্ধির আলোচনার পাশাপাশি স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের উপরেও বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীকে বিদেশে ছুটি কাটানো, বিদেশে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করা এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দেশের অর্থ দেশের ভেতরেই বিনিয়োগ ও ব্যয় করা হলে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথ আরও সুগম হবে বলেই মত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।