৩৯ বছর বয়সে বুট জোড়া তুলে রাখলেন ফুটবল জাদুকর, একনজরে LM10-এর সফর

আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসান ঘটল এক সোনালী যুগের। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে আর মাঠে দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে পাকাপাকি অবসরের ঘোষণা করলেন বিশ্ব ফুটবলের এই রাজপুত্র।
২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল মেসির। যদিও সেই ম্যাচটি খুব একটা সুখের ছিল না; মাঠে নামার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই বিতর্কিত শুরু থেকেই বিশ্ব ফুটবল এক জাদুকরের দেখা পেয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মেসি দেশের হয়ে মোট ২০৭টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১২৫টি গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর চেয়ে বেশি গোল রয়েছে একমাত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (১৪৬)। শুধু গোল করা নয়, সতীর্থদের দিয়ে ৬০টি গোল করিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের নেপথ্যে প্রধান কারিগর ছিলেন এই মহাতারকা। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষদের ফুটবলে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৩৪টি ম্যাচ খেলা, সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জেতা এবং ১২টি অ্যাসিস্ট করার বিরল রেকর্ডের মালিক এখন তিনি। এছাড়া বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে ৬টি গোল এবং ৬টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডও তাঁর ঝুলিতে। সচিন তেন্ডুলকরের মতো কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
বয়স এবং ব্যক্তিগত শোকের মাঝেই কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন তিনি। ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে নেমে সবচেয়ে বেশি বয়সি আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবেও গড়েছেন অনন্য নজির। অবসরের মুহূর্তে ভক্তদের উদ্দেশ্যে লেখা এক আবেগঘন চিঠিতে মেসি লিখেছেন, তিনি কখনও নিজের আর্জেন্টিনীয় পরিচয় থেকে সরে আসেননি এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি চিরকৃতজ্ঞ ও গর্বিত। তাঁর এই বিদায়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হলো।