প্রিয়জনের স্মৃতি চিরতরে ধরে রাখার ম্যাজিক! সামান্য পুঁজিতে বাড়ি বসেই বাজিমাত তরুণীর

পড়াশোনা শেষ করে গতানুগতিক চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিমত্তাকে পুঁজি করে অনন্য নজির গড়লেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার বাসিন্দা সুচরিতা জানা। শিক্ষাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর অর্জনের পর প্রথার বাইরে হেঁটে তিনি বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ আলাদা একটি পথ—’রেজিন শিল্প’ (Resin Art)। বর্তমানে বুটিক চালানোর পাশাপাশি অবসর সময়ে এই শিল্পকে হাতিয়ার করেই তিনি এখন স্বাবলম্বী।
রেজিন শিল্পের জাদুকরী কাজ
মানুষের পরিবর্তিত রুচি ও শৌখিন সামগ্রীর চাহিদাকে মাথায় রেখে সুচরিতা নিজের হাতে তৈরি করছেন চোখ ধাঁধানো সব জিনিসপত্র। এর মধ্যে রয়েছে ঘর সাজানোর নানা আকর্ষণীয় উপকরণ, মেয়েদের হ্যান্ডমেড জুয়েলারি এবং ডিজাইনার ঘড়ি থেকে পেন স্ট্যান্ড। তবে তাঁর এই কাজের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—প্রিয় মানুষের দেওয়া স্মৃতিবিজড়িত কোনো বিশেষ জিনিস বা উপহারকে রেজিনের মধ্যে চিরকালের জন্য সুরক্ষিত ও অমর করে রাখা।
অল্প পুঁজিতেই দুর্দান্ত লাভ
বাজারে প্রচলিত অন্যান্য শৌখিন জিনিসের তুলনায় সুচরিতার তৈরি এই সামগ্রীগুলির দাম বেশ সাশ্রয়ী। ন্যূনতম মাত্র ১৮০ টাকা থেকে তাঁর এই সমস্ত ডিজাইনার জিনিসের দাম শুরু হয়, যা ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজও করা যায়। কাঁচামালের সামান্য খরচ এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে তিনি প্রতি মাসে অনায়াসেই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করছেন।
অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই তাঁর তৈরি পণ্যের চাহিদা তুঙ্গে। বর্তমানে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম পেরিয়ে তাঁর হাতের তৈরি এই রেজিনের শিল্পকর্ম ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের অন্যান্যপ্রান্তেও। প্রথাগত চিন্তাধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুচরিতার এই সাফল্য আজ এলাকার বহু বেকার তরুণ-তরুণীকে নতুন স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে।