বালির সমান বিশাল বরফের চাঁই নিমেষে উধাও! ৪০ বছর পর পৃথিবীর বৃহত্তম হিমশৈলের এমন পরিণতি কেন হলো?

প্রায় চার দশক ধরে অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের বুকে দাপিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে চিরতরে হারিয়ে গেল বিশ্বের এককালীন বৃহত্তম হিমশৈল ‘এ২৩এ’ (A23a)। ১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার বালির সমান আয়তনের এই প্রকাণ্ড বরফের চাঁইটি সুদীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের বুকে ভাসমান ছিল।
দীর্ঘ পথচলা ও ‘চলন্ত দ্বীপ’ হয়ে ওঠার গল্প:
১৯৮৬ সালে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ কয়েক দশক এটি সমুদ্রের তলদেশে আটকে ছিল। এরপর ২০২০ সালে ফের এর নড়াচড়া শুরু হয়। দক্ষিণ মহাসাগরের শক্তিশালী স্রোতের টানে ভাসতে ভাসতে কখনও এটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিতে আটকে পড়ে, আবার কখনও বা আপন গতিতে এগিয়ে চলে। সাউথ জর্জিয়ার দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছানোর পর নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এটি এগোতে থাকে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যাত্রাপথে এই দৈত্যাকার হিমশৈলটি কেবল একটি বরফখণ্ড ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল আস্ত এক ‘চলন্ত দ্বীপ’। তিমি, পেঙ্গুইন এবং সিলের মতো বহু সামুদ্রিক বন্যপ্রাণের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল এটি। এমনকি, ১৯৮৬ সালে হারিয়ে যাওয়া একটি পুরনো সোভিয়েত গবেষণা কেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষও এর কাছাকাছি দেখতে পাওয়া গিয়েছিল।
উষ্ণ স্রোতের কোপে অবশেষে সমাপ্তি:
তবে প্রকৃতির নিয়মেই উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের সংস্পর্শে আসতেই এই বরফখণ্ডটি দ্রুত গলতে শুরু করে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এর আয়তন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় এটি ‘বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈল’-এর তকমা হারায়। অবশেষে ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ পুরোপুরি টুকরো টুকরো হয়ে সমুদ্রের জলেই নিজের অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন করে দেয় কিংবদন্তি এই ‘বরফ-দৈত্য’।