গরু-বালি থেকে সোজা সিঙ্গাপুর! অভিষেকের পিএ সুমিতকে নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের কোন বিস্ফোরক দাবি?

তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সুপ্রিম কোর্টে সুমিতের আগাম জামিনের মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের বিস্ফোরক দাবির পরই আসরে নেমে পড়েন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রতিটি অবৈধ পাচার থেকে শুরু করে আর্থিক দুর্নীতির মূল চাবিকাঠি ছিল এই সুমিতের হাতেই।

সুকান্ত মজুমদারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ:

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “সুমিতই তো সব সামলাতো! কোন দিক দিয়ে গরু যাবে, বালি যাবে, পাথর যাবে আর টাকাটা কোথায় কীভাবে পৌঁছবে— সিঙ্গাপুরে না কোথায় যাবে, সবটাই সুমিত নিয়ন্ত্রণ করত।” তিনি আরও দাবি করেন যে, সেসময় সুমিতের ফোন পেলেই জেলা স্তরের আইএএস অফিসার বা ডিএম এবং এসপি-রাও থরথর করে কেঁপে উঠতেন এবং তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন। সুকান্তের মতে, এই আর্থিক দুর্নীতির যেটুকু তথ্য এখন সামনে এসেছে, তা মাত্র হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এর নেপথ্যে দুবাইয়ের রিয়েল স্টেট সহ বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার ও বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের দাবি:

এর আগে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করে জানান যে, তৃণমূল কংগ্রেসের যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সুমিত রায় দুর্নীতির টাকা পাঠিয়েছিলেন, সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই আবার ৩০ কোটি টাকা গেছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Lips and Bounds)-এর অ্যাকাউন্টে। উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত সংস্থার সিইও হলেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডেবরার চাকরি দুর্নীতি, শালবনীর জমি কেলেঙ্কারি এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস বিতর্ক সহ একাধিক গুরুতর মামলায় নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সুমিত রায়ের ওপর আইনি খড়্গ ক্রমশ নেমে আসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *