বাচ্চাদের ঘাড় বা গলার গুটলি কি টিউমার? শিলিগুড়ির এই বড় সাফল্যে চমকে উঠবেন!

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের অন্ত নেই। বিশেষ করে ছোটদের ঘাড়, কান বা চোয়ালের পেছনে মার্বেলের মতো গুটলি বা ফোলা অংশ দেখলে বহু বাবা-মাই আতঙ্কিত হয়ে এটিকে টিউমার ভেবে ভুল করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি’ বা লিম্ফ বলা হয়, সেই জটিল চিকিৎসায় এবার এক বিশাল সাফল্য অর্জন করল শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার বড় পথুতে অবস্থিত সেন্ট্রাল আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনস্থ রিজিওনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর হোমিওপ্যাথি (RRH)। শিশুদের লিম্ফের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এই প্রতিষ্ঠান গোটা রাজ্যে এক অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে।

গবেষণার নেপথ্য কাহিনী ও সাফল্যের দিক:

প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, বহির্বিভাগে লিম্ফের সংক্রমণ নিয়ে আসা শিশুদের ক্রমবর্ধমান ভিড় দেখে চিকিৎসকরা এর ওপর গবেষণার সিদ্ধান্ত নেন। কেন্দ্র সরকারের অনুমোদনে বছরের শুরুতে এই গবেষণা শুরু হয়:

  • প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ জন শিশুকে বেছে নিয়ে টানা তিন মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে চিকিৎসা চালানো হয়।

  • এই পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।

  • গবেষণায় প্রতিটি ক্ষেত্রের ইতিবাচক ফলাফল ও অভাবনীয় সাফল্য মিলতেই এবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্প খরচে লিম্ফের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু করেছে আরআরএইচ।

লিম্ফ আসলে কী এবং কেন হয়?

ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা রঞ্জিত সোনি এবং চিকিৎসক সুমি রানি লোধের মতে, শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন কোনো সাধারণ সংক্রমণ বা সর্দি-কাশি, ফ্লু, টনসিল কিংবা কানের ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন নিকটস্থ লিম্ফ নোডগুলোতে শ্বেত রক্তকণিকা জমা হয়ে সাময়িকভাবে তা আকারে বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই সেরে গেলেও, দ্রুত বৃদ্ধি পেলে কিংবা পাথরের মতো শক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

আরআরএইচ-এর এই বিশেষ গবেষণা এবং সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আগামী দিনে লিম্ফ আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *