‘দলিত অবমাননা নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?’ উত্তরাখণ্ডের শুদ্ধিকরণ বিতর্ক মোড় নিল চরম আইনি সংঘাতে

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge)-র একটি রাজনৈতিক সভার স্থানকে ঘিরে উত্তাল উত্তরাখণ্ডের রাজনীতি। গত ৮ আগস্ট হালদওয়ানিতে কংগ্রেসের জনসভার পর সেই স্থানটিতে একটি ‘শুদ্ধিকরণ’ বা ‘হবন’ অনুষ্ঠান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার গড়াল সোজা পুলিশি অভিযোগ পর্যন্ত। শ্রী রাম সেনার (Shri Ram Sena) এক নেতার পক্ষ থেকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রী রাম সেনার অমিত কুমার হালদওয়ানি কোতোয়ালিতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, কংগ্রেস সভপতির সভার পর ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করে সেখানে যে ধর্মীয় শুদ্ধিকরণ বা যজ্ঞ করা হয়েছিল, তাকে কেন্দ্র করে তাঁকে জনসমক্ষে ‘অস্পৃশ্য’ ও ‘দলিত বিরোধী’ হিসেবে প্রতিপন্ন করে অপমান করা হয়েছে। তিনি নিজেকে তফসিলি জাতি (বাল্মীকি) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করে জানান যে, ওই পরিচ্ছন্নতা ও শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির সঙ্গে খাড়গের জাতির কোনও সম্পর্ক ছিল না, তা কেবল স্থানটির ধর্মীয় পবিত্রতা ফেরানোর জন্য করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে এফআইআর (FIR) দায়ের করার দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি, এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
কংগ্রেস বনাম বিজেপির তরজা তুঙ্গে
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে কংগ্রেসও। সম্প্রতি দিল্লির এক প্রেস কনফারেন্সে রাহুল গান্ধী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়েরের দাবি জানান। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রও এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন যে, এই ঘটনার ২০ দিন পরেও কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকার কোনো আইনি পদক্ষেপ নিল না। একে সংবিধান ও এসসি/এসটি (SC/ST) আইনের লঙ্ঘন বলেও তোপ দাগেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী দাবি করেন, উত্তরাখণ্ডের ওই ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কের সঙ্গে কোনো ধরনের জাতিগত যোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, সমাজে বিভাজন তৈরি করতে কংগ্রেস বারবার অকারণে জাতপাতের ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই শুদ্ধিকরণ ও আইনি অভিযোগের জল কতদূর গড়ায় এবং আসন্ন দিনে রাজনৈতিক মহল কোন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।