৩৯ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে দাঁড়ি! অবসর নিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রাস ও বীর ল্যাফটেনেন্ট জেনারেল দেবেন্দ্র শর্মা

সুদীর্ঘ ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য ও গৌরবোজ্জ্বল সামরিক জীবন শেষে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল দেবেন্দ্র শর্মা (Lt Gen Devendra Sharma)। তিনি শিমলার আর্মি ট্রেনিং কমান্ডের (ARTRAC) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর এই অবসর গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সেনার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
বীরত্ব ও সাহসিকতার এক অনন্য নাম
দ্বিতীয় প্রজন্মের সেনা আধিকারিক দেবেন্দ্র শর্মার রক্তেই ছিল দেশসেবা। তাঁর বাবা প্রয়াত উইং কমান্ডার শিব কুমার শর্মা ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার পাইলট, যিনি ১৯৬১ সালের গোয়া অপারেশন, ১৯৬২ সালের ফুচছে ও ডেমচক, ১৯৬৫ সালের হালওয়ারা এবং ১৯৭১ সালের পাঠানকোট যুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
আজমীরের মেয়ো কলেজের প্রাক্তনী দেবেন্দ্র শর্মা ১৯৮৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মার্ড রেজিমেন্ট ‘দ্য সিন্দে হর্স’ (SCINDE HORSE)-এ কমিশনপ্রাপ্ত হন। কর্মজীবনের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীরে ‘অপারেশন রক্ষক’-এর অধীনে সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযানে ১১ রাজপুতানা রাইফেলসের হয়ে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অসামান্য বীরত্বের জন্য তাঁকে ‘সেনা মেডেল’ (Sena Medal)-এ ভূষিত করা হয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি
পরবর্তী সময়ে তিনি সিন্দে হর্স, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড, একটি ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন এবং পশ্চিম সীমান্তে একটি পিভট কর্পস সফলভাবে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া স্ট্রাইক কর্পসের বিজিএস (অপারেশনস), কমান্ড হেডকোয়ার্টারের চিফ অফ স্টাফের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি দায়িত্ব সামলেছেন।
ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক প্রশাসনের প্রাক্তনী জেনারেল শর্মা কলেজ অফ ডিফেন্স ম্যানেজমেন্টে অভিন্ন মেধার তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে ‘চিফ অফ আর্মি স্টাফ ট্রফি’ অর্জন করেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালে তাঁর পেশাদার উৎকর্ষতা এবং অনুকরণীয় নেতৃত্বের জন্য তাঁকে বিশেষ জেম গিবসন পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয়। ২০২৪ সালের ১ জুলাই তিনি এআরট্র্যাকের (ARTRAC)-এর ২৫তম আর্মি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: দেশের সুরক্ষায় আত্মোৎসর্গ করা এমন প্রবীণ ও দক্ষ সামরিক আধিকারিকদের বর্ণময় জীবন তরুণ প্রজন্মের কাছে সবসময়ই এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।