সৌর প্যানেলের আশপাশে আসলে কী করে পাখিরা? ১৯ হাজার ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে যা জানলেন বিজ্ঞানীরা!

পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস হিসেবে সৌরশক্তি বা সোলার প্যানেলের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই বিশাল সৌর প্যানেলগুলি পাখিদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলছে? এই কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সম্প্রতি এক অভিনব ও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে টানা ১৯,০০০ ঘণ্টারও বেশি সময়ের ফুটেজ রেকর্ড করে যা দেখা গেছে, তা সত্যিই হতবাক করার মতো।
ঠিক কী জানা গেল গবেষণায়?
আমেরিকার আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (Argonne National Laboratory) গবেষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচটি বৃহৎ সোলার ফ্যাসিলিটিতে বিশেষ এআই-চালিত ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পর্যবেক্ষণে ৬৮ হাজারেরও বেশিবার পাখির আনাগোনা রেকর্ড করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেখা, পাখিরা সৌর প্যানেলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না কিংবা সোলার প্ল্যান্টগুলোকে তারা কীভাবে ব্যবহার করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পাখিরা সোলার প্যানেলগুলোকে ভয় পাওয়ার বদলে বরং নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যবহার করছে। সোলার প্যানেলের উপরের অংশকে তারা বসার বা বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। এছাড়া প্যানেলের নিচের ছায়াঘেরা ও আর্দ্র মাটিতে তারা খাবার অন্বেষণ করছে এবং শিকারী প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও এগুলোকে ব্যবহার করছে।
স্বস্তির খবর পরিবেশবিদদের জন্য
শুরুতে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, সোলার প্যানেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হয়তো বহু পাখির মৃত্যু হয়। তবে এই দীর্ঘ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ক্যামেরার নজরে আসা মনিটরিংয়ে কোনো পাখি প্যানেলের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার মতো মারাত্মক ঘটনার শিকার হয়নি। বরং সোলার প্যানেলের নিচের মাইক্রোক্লাইমেট বা আবহাওয়া কীটপতঙ্গ ও গাছপালার বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় তা পাখিদের খাদ্যসংগ্রহে দারুণভাবে সাহায্য করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, পরিচ্ছন্ন শক্তির পরিকাঠামো এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি যে একে অপরের পরিপূরক হয়ে একসঙ্গে বাঁচতে পারে, এই গবেষণা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কীভাবে পরিবেশ ও প্রকৃতির আসল চিত্র সামনে আনা সম্ভব, এই গবেষণা তারই এক অনন্য মাইলফলক।