ব্যবসায়ীকে গুলি করা থেকে সোনা লুঠ— একাধিক অপরাধের পান্ডারা নিকেশ পুলিশের এনকাউন্টারে!

রবিবার সকালে এক রোমহর্ষক এনকাউন্টারে চার কুখ্যাত ডাকাতকে নিকেশ করল মেঘালয় পুলিশ (Meghalaya Police)। পূর্ব গারো পাহাড় (East Garo Hills) জেলার সংসক (Songsak) এলাকার কাছে পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে চলা তুমুল বন্দুকযুদ্ধে এই সাফল্য এসেছে। এই অপারেশনটিকে আন্তঃরাজ্য অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে রবিবার সকালে সংসক এলাকায় চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালায় মেঘালয় পুলিশের একটি দল। তল্লাশি চলাকালীন অতর্কিতভাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা। আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও পাল্টা আক্রমণ চালায়। উভয়পক্ষের দীর্ঘক্ষণ চলা ভারী গোলাগুলির লড়াইয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চার ডাকাতের।

নিহত অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তারা হলো— মেঘালয়ের আলাচন মারাক (Alachon Marak), আগিয়ার কালাম শেখ (Kalam Sheikh), কৃষ্ণাইয়ের ভাবিদুল ইসলাম (Bhabidul Islam) এবং সুস্তম রাভা (Sustam Rabha)।

কোন কোন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল এরা?

পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই চার দুষ্কৃতী দীর্ঘদিন ধরে একাধিক চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তাদের খোঁজে বিভিন্ন থানায় মামলা ঝুলছিল। নিহতদের মধ্যে আলাচন মারাক গত ২৩ আগস্ট দুধনৈ (Dudhnoi)-এর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সায়েদের ওপর চালানো প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার মূল অভিযুক্ত ছিল। নিজ প্রতিষ্ঠানের ঠিক সামনেই ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করে জখম করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সুস্তম রাভা সরাসরি ২০২১ সালের দুধনৈয়ের আলোচিত ‘লেলা রোবারি’ (Lela robbery) মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল।

এই সফল অভিযানের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সক্রিয় একটি বড় আন্তঃরাজ্য অপরাধ চক্রের কোমর ভেঙে গেছে বলে মনে করছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তাদের বৈষয়িক ও কৌশলগত নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাজ্যজুড়ে অপরাধ দমনে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *